বাংলার এই উঠতি ক্রিকেটারের দুটি কিডনিই ফেল, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি কোচের
আজ তক | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
Bengal Cricketer Kidney Fail: বেঙ্গল ক্রিকেটের এক তরুণ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জীবন-মৃত্যুর কঠিন লড়াইয়ে। দুই কিডনিই অকেজো হয়ে যাওয়ায় এখনই কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনও রাস্তা নেই আকাশ বিশ্বাসের সামনে। কিন্তু চিকিৎসার বিপুল খরচ বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই তাঁর পরিবারের। ফলে মাঠের লড়াইয়ের বাইরে, হাসপাতালের শয্যায় চলছে আকাশের সবচেয়ে বড় ম্যাচ।
চিকিৎসকদের মতে, আকাশ দীর্ঘদিন ধরেই ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ভুগছেন। বর্তমানে তাঁর দু’টি কিডনিই সম্পূর্ণভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। নিয়মিত ডায়ালিসিসের উপর নির্ভর করেই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। স্বস্তির কথা, আকাশের মায়ের কিডনি তাঁর শরীরের সঙ্গে ম্যাচ করেছে। কিন্তু অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসার খরচই এখন প্রধান বাধা।
এই পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোর হাত বাড়িয়েছেন বাংলার কোচ ও প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতন শুক্ল। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে অনুশীলনের সময় আকাশের সঙ্গে দেখা হয় তাঁর। সেখানেই ফের আকাশের শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান শুক্ল। উল্লেখ্য, প্রায় ছ’মাস আগে ব্যক্তিগতভাবে আকাশের চিকিৎসার জন্য এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি।
ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত নাম আকাশ বিশ্বাস। কালীঘাট স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে লেগ স্পিনার হিসেবে খেলেন তিনি। প্রয়োজনের সময়ে ব্যাট হাতেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রান করেছেন। ক্লাবের এক প্রবীণ কর্তা জানিয়েছেন, আকাশের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। কিডনি প্রতিস্থাপনের খরচ কোনওভাবেই একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার বা ক্লাবের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
লক্ষ্মীরতন শুক্লের কথায়, “আকাশ একজন ফাইটার। আমি নিশ্চিত, সে আবার ক্রিকেটে ফিরবে। কিন্তু তার আগে তাকে বাঁচাতে হবে। এটা শুধু একজন ক্রিকেটারের কথা নয়, একটা মানুষের জীবনের প্রশ্ন।” প্রশাসন ও ক্রিকেট মহলের যৌথ উদ্যোগেই যে আকাশ নতুন জীবন পেতে পারে, সে কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, লক্ষ্মীরতন শুক্লের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খেলোয়াড়দের ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময়ই সংবেদনশীল। প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের পর দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে বলেই ইঙ্গিত প্রশাসনের। এখন বাংলার ক্রিকেটমহলের একটাই প্রার্থনা, সময় থাকতে যেন আকাশ বিশ্বাসের জীবনে ফের আলো ফেরে।