• কোনও সরকারি পদে না থেকেও নীলবাতির গাড়িতে ঘুরে সভা, TMC-র নিশানায় মিঠুন
    আজ তক | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • বিজেপির তারকা নেতা মিঠুন চক্রবর্তী রাজনীতিতে হঠাৎ করেই সক্রিয়। বিভিন্ন জেলায় জেলায় মিটিং মিছিলে তাঁকে দেখা যাচ্ছে। আর যেখানেই যাচ্ছেন গাড়ি সহ দেহরক্ষীরাও থাকছে। তবে সম্প্রতি তাঁকে নীলবাতি লাগানো গাড়িতে চড়ে সভাস্থলে যেতে দেখা গিয়েছে। আর তা নিয়েই সমালোচনা শুরু। সরকারি কোনও পদে না থেকে সাধারণ বিজেপির একজন নেতা হয়ে কী করে মিঠুন চক্রবর্তী নীলবাতি লাগানো গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন? উঠছে প্রশ্ন।

    নীল ও লালবাতি লাগানো গাড়িতে দিনের পর দিন ঘোরা একাধিক ভুয়ো আধিকারিকদের একাধিকবার হদিশ মিলেছে এ রাজ্যে। যা নিয়ে শাসকদলকে তুলোধোনা করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। তুমুল সমালোচনার মুখে তাই গাড়িতে লাল ও নীলবাতি ব্যবহার নিয়ে নয়া নির্দেশিকাও জারি করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই নিয়মকে উপেক্ষা করে নিয়ম ভেঙে সেই পথেই হাঁটলেন মিঠুন চক্রবর্তী।

    বীরভূমের সিউড়ি বিধানসভার গোয়ালিয়ারা ফুটবল মাঠে বিজেপির 'পরিবর্তন সংকল্প' সভায় যোগ দেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী৷ তিনি বিজেপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য৷ সভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি বোলপুরে একটি বেসরকারি হোটেলে ছিলেন। সেখান থেকে নীলবাতির গাড়িতে চড়ে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে সিউড়ির সভায় যোগ দিতে যান।

    মিঠুন চক্রবর্তী কীভাবে নীলবাতি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন? এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ তিনি না রাজ্য সরকারের, না কেন্দ্র সরকারের কোন পদে রয়েছেন। তাও কীভাবে নীলবাতি গাড়িতে চড়ে যাতায়াত করতে পারেন৷ তবে এদিন সাংবাদিকরা মিঠুন চক্রবর্তীকে প্রশ্ন করেন, 'দাদা আপনি কীভাবে নীলবাতি গাড়ি ব্যবহার করেন?' এই প্রশ্নের কোনও উত্তর না দিয়েই গাড়িতে উঠে যান অভিনেতা৷

    তবে তাঁর এই লালবাতি ব্যবহার নিয়ে রীতিমতো বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের বীরভূম জেলার মুখপাত্র জামসেদ আলি খান বলেন, মিঠুন চক্রবর্তী কীভাবে নীলবাতি ব্যবহার করেন? কেন্দ্রের আইন আছে। আর কেন্দ্রে বিজেপি সরকার। মিঠুন চক্রবর্তী বিজেপি নেতা বলেই কি নিয়ম ভাঙতে পারেন? রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাতে টাকা নিয়েছেন, তাও বিজেপি বিরোধীদের পিছনে ইডি-সিবিআই পরে আছেন৷ এই ভাবেই সরকারি কোনও পদে না থেকেও মিঠুন চক্রবর্তী নীলবাতি গাড়ি নিয়ে বিজেপির সভায় যোগ দিচ্ছে৷ সংবিধান মানে না বিজেপি।

    এই প্রসঙ্গে, সিপিআইএমের বীরভূম জেলা সম্পাদক গৌতম ঘোষ বলেন, আইন ভাঙা তো বিজেপি শেখায় ৷ তারা সংবিধান মানে না ৷ নীলবাতি শুধু নয়, সব রকম বেআইনি কার্যকলাপকে বুক ফুলিয়ে করে চলেছে৷ বেআইনিটাই নিয়ম বানিয়ে ফেলেছে৷ সভায় যোগ দিয়ে তাঁকে একাধিক সিনেমার ডায়লগ দিতে শোনা যায়।

    লালবাতি ও নীলবাতি গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভেহিলেক আইন ১৯৮৯ রয়েছে। তা ২০১৭ সালে সংশোধন হয় ৷ তাতে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোন ভাবে বাতির অপব্যবহার করা যাবে না৷ করলে তা জরিমানা ও দণ্ডনীয় অপরাধ।

    বুধবার বীরভূমের সিউড়িতে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প’ সভায় হাজির ছিলেন অভিনেতা ও বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী। রাজ্য সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে মিঠুন চক্রবর্তী বলেন- ওই ফাইলের মধ্যে এমন কী আছে, যে তাড়াতাড়ি করে নিয়ে চলে গেলেন।

    হতে পারে কয়লার পয়সা আছে, বালির পয়সা আছে, বিদ্যার পয়সা আছে, খাবারের পয়সা আছে, যত ধরনের দুর্নীতি হতে পারে তার পয়সার হিসাব রয়েছে। কাকে দিয়েছেন, কার থেকে নিয়েছেন সে একটা ভয় থাকতে পারে। তার জন্যই ফাইল নিয়ে চলে গেলেন। আর যেটা সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ উনি চান যত অভারতীয় আছে সবাই বাংলায় ঢুকে পড়ুক। তারপর এটাকে পশ্চিম বাংলাদেশ করে দেবে। এতই কী সোজা। যতদিন আমার গায়ে এক ফোঁটা রক্ত আছে ততদিন কেউ এটা করতে পারবে না।

    একই সঙ্গে তিনি বলেন- যাঁরা দুর্নীতি করেছে তাঁদের বাড়িতেই ED, CBI হানা দেয়। যাঁদের বাড়িতে রেড করছে তাঁরা নিশ্চয়ই কিছু না কিছু করেছে। তারপরে এর থেকে যে বড় ঘটনা ঘটল, এই রাজ্যের প্রধান তিনি অফিসের মধ্যে ঢুকে ল্যাপটপ, কম্পিউটার, এছাড়া যত ফাইল ছিল সব তুলে নিয়ে চলে এল। আমাদের বলা হল ওখানে ইলেকশনের পরিকল্পনার কিছু কথা লেখা ছিল, তাই তুলে এসেছেন। আমরা নাকি জানতে পারব।

    উনি এবারে বলেছেন ‘খেলা হবে’। বড় খেলা হবে। আগের নির্বাচনে বিজেপিদের মেরেছেন, ঘরছাড়া করেছেন, প্রাণে মেরেছেন। এবার কী করবেন? কাটবেন না ঝোলাবেন? মনে রাখবেন, এবার আপনি একা খেলবেন না, আমরাও খেলব। পেনাল্টিতে কীভাবে গোল করতে হয় সেটাও দেখাব।
  • Link to this news (আজ তক)