• SIR শুনানিতে গোলমাল, কোনওরকম অশান্তি হলেই... এবার কড়া পদক্ষেপ কমিশনের..
    ২৪ ঘন্টা | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলায় SIR শুনানিতে অশান্তি। এবার কড়া পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকা জারি করা হল যে, কোনওরকম অশান্তি হলে সেদিনের মতো শুনানি স্থগিত হয়ে যাবে। এমনকী,  যদি ২-৩ ধরে অশান্তি চলে, সেক্ষেত্রেও শুনানি স্থগিত থাকবে। কমিশন সূত্রে তেমনই খবর।

    বাংলায় SIR নিয়ে মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও পদ্ধতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হিয়ারিংয়ে থাকতে দিতে হবে BLA-দের!শুধু তাই নয়, কেন নাম বাদ, কারণ দেখিয়ে ব্লকে-ব্লকে টাঙাতে হবে সেই ১.৩২ কোটির লিস্টও! এর অর্থ, লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির তালিকা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস ও বিডিও অফিসে ঝোলাতে হবে। এরপরই  রাজ্যের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিসের ডিজি ও কলকাতার পুলিস কমিশনারকে চিঠি পাঠায় কমিশন। কবে? বুধবার।

    কমিশনের চিঠি


    ----


    SIR সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ বা শুনানির প্রক্রিয়া প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন, প্রতিটি তালুকের জনসমাগমস্থল ও ব্লক অফিস এবং শহরাঞ্চলের ওয়ার্ড অফিসগুলিতে পরিচালনা করতে হবে।

    পশ্চিমবঙ্গে SIR সংক্রান্ত নথি, আপত্তি গ্রহণ এবং শুনানির কাজ সামলানোর জন্য রাজ্য সরকারকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অধীনে পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিস এবং অন্যান্য নির্ধারিত স্থানে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ করতে হবে।

    ওই সমস্ত স্থানে SIR প্রক্রিয়ার জন্য় যাতে সুষ্ঠুভাবে করা যায়, সেজন্য জেলাশাসক ও পুলিস সুপারকে পর্যাপ্ত কর্মী ও পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

    রাজ্য পুলিসের ডিজি, কলকাতার পুলিস কমিশনার ও প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে যাতে সংশ্লিষ্ট স্থানগুলিতে কোনো আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে এবং এসআইআর সংক্রান্ত কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়। 

    এদিকে ১৪ ফ্রেরুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা।  বাংলায় নির্দিষ্ট সময়ে শুনানি শেষ করতে ও কাজে গতি আনতে পড়শি রাজ্য থেকে পর্যবেক্ষণ আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। কমিশন সূত্রে খবর, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং উড়িষ্যা থেকে আপাতত ২৯৪ জন পর্যবেক্ষণ আসছেন। প্রয়োজনে সংখ্য়াটা আরও বাড়তে পারে। প্রত্যেকটি বিধানসভার দায়িত্বে থাকবেন একজন পর্যবক্ষেক।

    তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, 'ঝামেলা অশান্তি তার দায়িত্ব যেমন রাজ্য প্রশাসনের, তেমনি সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষুদ্ধ না হন, সেই দায়টা কিন্তু নির্বাচন কমিশনের। 'প্রথমে অ্যাডমিট কার্ড চলবে, তারপর অ্যাডমিট কার্ড চলবে না। তারপর সুপ্রিম কোর্টে থাপ্পড় খেয়ে আবার অ্য়াডমিট কার্ড চলবে। লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসির নামে জিক্যালের নামে সাতজন সন্তান যদি একজন বাবা বলে দেখায়, তাহলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশি। শুধুমাত্র বাংলাকে টার্গেট করে, বয়ষ্ক, অসুস্থ, অন্তঃস্বত্ত্বা মহিলাদে লাইনে দাঁড় করাচ্ছে। এমন কাগজপত্র চাইছেন, যেগুলি তাদের কাছে নেই। মানুষকে হয়রান করছেন। তারপরে যদি মানুষ ক্ষিপ্ত হন। তার ব্য়বস্থাটা করুন। তা না করে অশান্তি হলে পিছব, এটা কোনও যুক্তি হতে পারে'।

    বিজেপির রাহুল সিনহার পালটা দাবি, 'মণিরুল ইসলাম, সে মানুষ না তৃণমূলের অমানুষ। সে যতগুলি হামলা করেছে, প্রত্যেকটা হামলায় তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা যুক্ত। হামলার সঙ্গে ওরাই জড়িত, বড় বড় কথা বলে তো লাভ নেই! মানুষ এসেছিল হিয়ারিং করতে, আর তৃণমূল এসেছিল হিয়ারিং-কে ধ্বংস করতে'। তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশন যে পলিসি নিয়েছে, আমি মনে করি সুপার পলিসি। নির্বাচনে যত দেরি করবে, আস্তে আস্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আয়ু শেষ হয়ে যাবে। আপনা থেকে বাংলার রাষ্ট্রপতি শাসনে ভোট হবে'।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)