প্রথম বন্দে ভারত স্লিপারে নষ্ট খাবার যাত্রীদের, মেনে নিল আইআরসিটিসি
বর্তমান | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি ও হাওড়া: নির্বাচনী ‘ভেট’ দিয়ে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালিয়ে দুই ভোটমুখী রাজ্য বাংলা এবং অসমকে জুড়তে চেয়েছিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার চালুর আগেই ট্রেনের সম্পূর্ণ নিরামিষ মেনু নিয়ে বিতর্ক একেবারে তুঙ্গে উঠেছিল। এবার ‘ফার্স্ট কমার্শিয়াল রান’ ও বিতর্কের বাইরে থাকতে পারল না। বৃহস্পতিবার কামাখ্যা থেকে হাওড়ার উদ্দেশে প্রথম যাত্রী পরিবহণ শুরু করেছে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস। শুক্রবার তা হাওড়ায় পৌঁছেছে। ওই ট্রেনের যাত্রী দিব্যেন্দু চক্রবর্তী বলেন, ‘ভাত খুবই খারাপ ছিল। আমার স্ত্রী তরকারি মুখেই দিতে পারল না। ডালটাও টক টক। বাড়তি টাকা নিয়ে স্থানীয় ট্র্যাডিশনাল খাবারের নামে ভাঁওতাবাজি চলছে।’ একই দাবি ব্যবসায়ী নবকান্তি বড়ুয়া ও জগন্নাথ শর্মার। তাঁরা দুজনই তিনসুকিয়ার বাসিন্দা। বলেন, ‘অসমীয়া লাবড়ার নামে যে খাবার দেওয়া হয়েছে, সেটা স্রেফ সবজি সেদ্ধ ছাড়া আর কিছুই না।’ ওই ট্রেনের যাত্রীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে ডিনার সার্ভ করাই হয়নি। রাত প্রায় ১২টা নাগাদ এনজেপির কাছে নৈশাহার পেয়েছেন রেল যাত্রীরা। এদিন হাওড়া থেকে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে আবার নন ভেজ নিয়ে অসন্তোষ দেখা গিয়েছে। জলপাইগুড়িতে স্কুল প্রাক্তনীদের পুনর্মিলন উপলক্ষ্যে যাচ্ছেন অয়ন রায়। তাঁর দাবি, ‘রেল কর্তৃপক্ষ জোর করে বাঙালিকে নিরামিষ খেতে বাধ্য করছে। এটা ঠিক নয়।’ লিলুয়ার বাসিন্দা দীনেশ ঝা বলেন, ‘ফিরতি ট্রেনে টিকিট কাটার সময় ভেজ ও নন-ভেজের অপশন ছিল। নন ভেজ খাবো বলেই ঠিক করেছিলাম। এখন তো দেখছি পুরোটাই ভেজ করে দিয়েছে।’প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের খাবার নিয়ে মাঝরাতেই অন-বোর্ড রেল কর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন যাত্রীরা। ডেকে আনা হয় টিটিই, আইআরসিটিসি সুপারভাইজারকে। এমনকি চলে আসে আরপিএফ। যাত্রীরা প্রশ্ন করতে থাকেন, নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার তাঁদের কেন সরবরাহ করা হয়েছে? দায়িত্বপ্রাপ্ত রেল কর্মীদের সামনেই খাবার ফেলে দেন অনেকেই। এবিষয়ে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জনসংযোগ আধিকারিক নীলাঞ্জন দেব ‘বর্তমান’কে জানিয়েছেন, অভিযোগ সত্যি কি না, তা এভাবে বলা সম্ভব নয়। এসংক্রান্ত পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইআরসিটিসি। তাদের কাছেই জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ কেন উঠেছে, তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।রেলমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে ‘বর্তমান’কে জানানো হয়েছে, বোর্ডের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে আইআরসিটিসির কাছে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতের মধ্যেই সেই রিপোর্ট জমা পড়েছে। তার কপিও এসেছে ‘বর্তমান’-এর হাতে। রিপোর্টে খাবার নষ্টের অভিযোগ একপ্রকার মেনে নিয়েছে আইআরসিটিসি। রেল বোর্ডকে তারা জানিয়েছে, একটি নামী সংস্থার থেকেই খাদ্য নেওয়া হয়েছিল। যাত্রীদের যে ডাল দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে টক টক গন্ধ বেরচ্ছিল। অভিযোগ পেতেই তা মেনু থেকে বাদ দেওয়া হয়। আইআরসিটিসি জানিয়েছে, অসমীয়া স্টাইলের লাবড়া কিংবা জোহা রাইস নষ্ট না হলেও তা যেভাবে সার্ভ করা হয়েছিল, মূলত তাতেই আপত্তি জানানো হয়। পরে এনজেপি থেকে বিকল্প খাবার যাত্রীদের দেওয়া হয়। তারা তাতে সন্তুষ্টও হয়েছেন। রিপোর্টে আইআরসিটিসি জানিয়েছে, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের যে যাত্রী প্রধানত এবিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন, তিনি পরে সেই ভিডিও ডিলিট করে দিয়েছেন।