• জন্মজয়ন্তীতে মন্দিরে নেতাজিকে পুজো, কেক-পায়েস-মিষ্টির ভোগ
    বর্তমান | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জন্মজয়ন্তীতে মন্দিরে দেবতাজ্ঞানে পুজো পেলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। কেক, পায়েস ও লুচি-মিষ্টিতে বিশেষ ভোগ দেওয়া হল দেশনায়ককে। ফুলের মালা ও বেলুনে জলপাইগুড়িতে সাজানো হল ‘নেতাজির মন্দির’। শুক্রবার সকাল থেকেই এই মন্দিরে নেতাজি-পুজোয় শামিল হতে ভিড় জমান বহু মানুষ।শহরের মাসকলাইবাড়িতে জলপাইগুড়ি-শিলিগুড়ি রোডের পাশে রয়েছে পঞ্চমুখী হনুমান মন্দির। এই মন্দিরের বিশেষত্ব হল, আর পাঁচটা বিগ্রহের সঙ্গে এখানে দেবতাজ্ঞানে পুজো করা হয় নেতাজিকে। বছরভর নিয়ম করে পুজো চললেও ২৩ জানুয়ারি থাকে বাড়তি আয়োজন। এবারও তার অন্যথা হয়নি। নেতাজির পাশাপাশি এই মন্দিরে পূজিত হন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী। মন্দির কমিটির দাবি, শহর থেকে গ্রামে বহু মনীষীর মূর্তি দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে সেসব মূর্তি সারাবছর কার্যত অনাদরে পড়ে থাকে। বিশেষ দিন এলে তবেই মনীষীদের মূর্তি পরিষ্কারের কথা মনে পড়ে। প্রলেপ পড়ে রংয়ের। ফুল-মালা দেওয়া হয়। কিন্তু মনীষীদের দেবতাজ্ঞানে পুজো করা, জলপাইগুড়ি ছাড়া দেশে আর কোথাও হয় বলে মনে হয় না।সালটা ১৯২৭। দেশে তখন আছড়ে পড়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের ঢেউ। এমন সময় জঙ্গলঘেরা জলপাইগুড়ির মাসকলাইবাড়িতে সাধন-ভজনের উদ্দেশ্যে আসেন স্বামী করপাত্রী মহারাজ। জনশ্রুতি, ঋষিকেশ থেকে এসেছিলেন ওই সাধু। এলাকার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘বুড়ো বাবা’ হিসেবে। পরবর্তীতে তিনিই মন্দিরটি তৈরি করেন। অন্যান্য দেবতার সঙ্গে মন্দিরে স্থান দেন নেতাজি এবং গান্ধীজিকে। অনেক পরে নতুন করে মন্দির প্রতিষ্ঠা হলে স্থাপন করা হয় নেতাজি ও গান্ধীজির কংক্রিটের মূর্তি।মন্দিরের পুরোহিত অমিয় দাস বলেন, অন্য দেবতাদের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা পুজো করা হয় নেতাজিকে। ২৩ জানুয়ারি জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে শুক্রবার নেতাজি মূর্তির সামনে বিশেষ ভোগ দেওয়া হয়। পায়েসের পাশাপাশি ছিল কেক, লুচি-পায়েস, নাড়ু।মন্দির কমিটির সম্পাদক প্রদীপ বসাক বলেন, আমাদের মন্দির বহু পুরনো। প্রবীণদের কাছে শুনেছি, ঋষিকেশ থেকে আসা সাধুবাবা নেতাজির ছবি সামনে রেখে ধ্যান করতেন। পরবর্তীতে তিনিই নেতাজি এবং গান্ধীজিকে দেবতার আসনে স্থান দেন। নেতাজির মতো দেশনায়ককে পুজো করতে পেরে আমরা গর্বিত।• নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)