• দার্জিলিংয়ে অবৈধ নির্মাণ বন্ধে পুরসভাকে নির্দেশ হাইকোর্টের
    বর্তমান | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শৈলশহরে কোনওভাবে যাতে অবৈধ নির্মাণ না হয়, দার্জিলিং পুরসভাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। গত নভেম্বরে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এনিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিল উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ। নির্দেশে বলা হয়েছে, দার্জিলিং শহরে কোথাও বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পুরসভার। কোথাও যাতে অবৈধ নির্মাণ না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে তাদের। সেইসঙ্গে এ ব্যাপারে চার সপ্তাহের মধ্যে দার্জিলিং পুরসভা সহ মামলায় যুক্ত অন্যদেরও বক্তব্য জানাতে বলেছে আদালত। তাদের হলফনামা জমা পড়ার পর দু’সপ্তাহের মধ্যে ফের নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন মামলাকারী। তারপরই এনিয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হবে।আদালতের নির্দেশ নিয়ে অবশ্য মন্তব্য করতে চাননি দার্জিলিং পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্র থাকুরি। মামলাকারীর পক্ষের আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় বলেন, এমনিতেই ধস ও ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত দার্জিলিং। তার উপর সেখানে যেভাবে গাছ ও পাহাড় কেটে একের পর এক বহুতল কিংবা বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে পরিবেশের ভারসাম্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই দার্জিলিংকে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে আদালতকে জানানো হয়েছে। দার্জিলিং শহরে যাতে একটিও বেআইনি নির্মাণ না হয়, সংশ্লিষ্ট পুরসভাকে তা নিশ্চিত করতে হবে বলে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।জনস্বার্থ মামলা দায়েরকারী সাংবাদিক চন্দ্রাণী সিংহ পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন। তাঁর অভিযোগ, দার্জিলিং শহরের বুকে নিয়ম না মেনে একের পর এক অবৈধ নির্মাণ হয়ে চলেছে। বাড়িঘর, হোটেল এমনকী যত্রতত্র গড়ে উঠছে হোম স্টে। এ ব্যাপারে দার্জিলিং পুরসভার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, তারা কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। বেআইনি নির্মাণের কারণেই পাহাড়ে ফি বছর বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি তাঁর। চন্দ্রাণী বলেন, তথ্য জানার অধিকার আইনে দার্জিলিং পুরসভার কাছে জানতে চাওয়া হয়, শৈলশহরে কতগুলি বেআইনি নির্মাণ রয়েছে এবং সেগুলির বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নোটিস ধরানো হলেও অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে কিছুই করেনি দার্জিলিং পুরসভা।
  • Link to this news (বর্তমান)