• মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ভোট ঘোষণা? এক কোটির উপর শুনানি, দ্রুত শেষের টার্গেট বেঁধে দিল কমিশন
    বর্তমান | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহেই কি নির্বাচনি নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে চলেছে কমিশন? ইঙ্গিত তেমনই। আর সেজন্যই জেলায় জেলায় দ্রুত শুনানির কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, জেলাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নো-ম্যাপ ভোটারদের  (২০০২ সালের ভোটার তালিকা নিজের বা আত্মীয়ের নাম নেই) শুনানিতে বিস্তর সময় ব্যয় হয়েছে। তাই পদ্ধতি বদল করতে হবে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি বা সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানিতে অত সময় খরচ করা যাবে না। কীভাবে দ্রুত শুনানি শেষ করা যায়, পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলাভিত্তিক তার গাইডলাইন ঠিক করতে হবে ডিইওদেরই। সূত্র মারফত আরও জানা যাচ্ছে, নির্দেশে জেলাগুলিকে কার্যত জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনি নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে চাইছে কমিশন। সে কারণে দ্রুত শুনানি শেষ করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতেই হবে।সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর আজ, শনিবারের মধ্যেই লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকায় থাকা প্রত্যেকের নাম পঞ্চায়েত ও ওয়ার্ড অফিসগুলিতে টাঙানোর কাজ শেষ করতে হবে। তারপর তালিকায় থাকা ভোটারদের আপত্তি জানানোর জন্য ১০ দিন সময় দিতে হবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নির্ধারিত তারিখ, অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা যাবে না। তা অন্তত দু’সপ্তাহ পিছিয়ে যাবে। এরপর আর বাড়তি সময় দিতে নারাজ কমিশন। ঠিক এই কারণেই দ্রুত শুনানির কাজ শেষ বলা হয়েছে জেলাগুলিকে। কিন্তু কমিশনের এহেন নির্দেশের পরও দ্রুত সব কাজ শেষ করা যাবে কি না, তা নিয়ে রীতিমতো সন্দিহান শুনানির দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা। কারণ, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি তালিকা প্রকাশের পর ওই তালিকায় থাকা সব ভোটারের শুনানি সেরে ফেলতে হবে। এক কোটির বেশি মানুষের নথি সংগ্রহ ও তা যাচাই কীভাবে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব? এই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের অন্দরেই। কমিশন সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, এ পর্যন্ত ২২ লক্ষ সন্দেহজনক ভোটারের শুনানি শেষ হয়ে গিয়েছে। নথি গ্রহণযোগ্য হলে তাঁদের আর শুনানিতে ডাকা হবে না।যদিও কমিশন মনে করছে, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণা না করা গেলে তাদেরই সংকটে পড়তে হবে। কারণ আগামী ৫ মে’র মধ্যে পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া শুরু করতেই হবে। আইন অনুযায়ী ঘোষণার দিন থেকে সর্ব্বোচ্চ ৪৩ দিন ও সর্বনিম্ন ২৮ দিনের ব্যবধান থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি ভোট শেষ হওয়ার পর ফল ঘোষণার মধ্যে অন্তত পাঁচ থেকে ছ’দিনের ব্যবধান রাখাই রীতি। ফলে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা করা না গেলে এই আইনি ডেডলাইন ব্যাহত হবে। সেকারণেই দ্রুত সব কাজ শেষের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যে আসবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। তারপর তারা দিল্লি ফিরে গিয়েই নির্বাচনি নির্ঘণ্ট প্রকাশ করে দেবে। সব কিছু সাত দিনের ব্যবধানের মধ্যেই করতে চাইছে কমিশন। ঠিক যেমনটা হয়েছিল বিহারে।
  • Link to this news (বর্তমান)