• ইন্ডিয়ান অয়েলে চাকরির টোপ, সোনার গয়না ও বাড়ি বন্ধক রেখে ৩২ লক্ষ টাকা দিতেই উধাও প্রতারক, শেষমেশ ধৃত
    বর্তমান | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্ডিয়ান অয়েলে চাকরি মিলবে। তবে তার জন্য গুনতে হবে টাকা। কেন্দ্রীয় সরকারের পদস্থ কর্তা পরিচয় দিয়ে চাকরির টোপ দিয়েছিল এক ব্যক্তি। তার ক্ষমতা কতটা, তা বোঝাতে বেশ কিছু ছবিও দেখিয়েছিল সে। তাতে বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে তাকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গিয়েছিল। ওই ছবি দেখে আশ্বস্ত হয়েছিলেন পাটুলির তিন যুবক। তাঁরা ভেবেছিলেন, এমন এক হোমরাচোমরা অফিসারকে টাকা দিতে পারলে চাকরি পাকা। সেইমতো সোনার গয়না, বাড়ির দলিল বন্ধক রেখে বাজার থেকে ঋণ নিয়েছিলেন তাঁরা। সেই টাকা দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তিকে। সব মিলিয়ে ৩২ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন ওই তিনজন। টাকা হাতে পেতেই উধাও ওই ব্যক্তি। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে পাটুলি থানায় অভিযোগ জানান তাঁরা। তার প্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন ধরেই গোরু খোঁজা খুঁজছিল পুলিশ। শেষমেশ বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে অভিযুক্ত কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তিকে ঠকানোর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণেন্দু এক সময় পাটুলিতেই থাকত। বছর দুই আগে পাটুলি বাজারে তিন যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। কৃষ্ণেন্দু নিজেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বড়ো কর্তা বলে পরিচয় দেয়। নকল আইডি প্রুফও দেখায়। কথায় কথায় বলে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের অনেকেই তার ঘনিষ্ঠ, নিয়মিত কথা হয়। মন্ত্রীদের ফোন নম্বরও দেখায় তাঁদের। আস্থা অর্জনের পর ফোন নম্বর আদানপ্রদান হয়। একদিন ফোনে কথা প্রসঙ্গে জানায়, ইন্ডিয়ান অয়েলে ভালো সংখ্যক লোক নিয়োগ হবে। মন্ত্রীদের কোটায় সে কয়েকজনের চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারে। তিনজন তার কথায় আশ্বস্ত হলে সে ৩২ লক্ষ টাকা দিতে বলে। কিন্তু এত টাকা আসবে কোথা থেকে? মাথায় হাত পড়ে তাঁদের। আবার চাকরির লোভ ছাড়তে পারছিলেন না তাঁরা। শেষ অবধি সোনার গয়না ও বাড়ির দলিল বন্ধক রেখে তিন যুবক বাজার থেকে ৩২ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। এরপর তাঁরা অনলাইনে ২২ লক্ষ টাকা ও নগদে ১০ লক্ষ দেন কৃষ্ণেন্দুকে। টাকা নেওয়ার পরই ফোন সুইচড অফ করে দেয় সে। তারপর নানা চেষ্টা করেও দীর্ঘদিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তিন যুবক পাটুলি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ জালিয়াতি, প্রতারণার মামলা রুজু করে।তদন্তে নেমে অফিসাররা দেখেন, নেতাজিনগর, ব্যাঙ্কশাল স্ট্রিট, লেকটাউন, বাগুইআটি সহ পাঁচটি ঠিকানায় কৃষ্ণেন্দুর নামে আধার কার্ড ইস্যু হয়েছে। সেখানে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওইসব এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়েছে সে। গা-ঢাকা দিতেই তার এই ব্যবস্থা। পুলিশ এক সোর্সের মাধ্যমে তাকে টোপ দেয়, এক ব্যক্তি চাকরির জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছে। একথা শুনে টাকার লোভে বৃহস্পতিবার কৃষ্ণেন্দু পাটুলি থানার সামনে এলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জেরা করে অফিসাররা জেনেছেন, একাধিক ব্যক্তিকে এই কায়দায় ঠকিয়ে সে বিপুল টাকা করেছে। হেয়ার স্ট্রিট ও সোনারপুর থানায় তার নামে পুরানো মামলা রয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)