এক বছরে কত ভুয়ো পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত, তথ্য চাইল লালবাজার
আনন্দবাজার | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
বছরখানেক আগে প্রথম ভুয়ো পাসপোর্ট-চক্রের সন্ধান পেয়েছিল কলকাতা পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছিল চক্রের ১০ জনকে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, বাংলাদেশি নাগরিকদের বেআইনি ভাবে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করিয়ে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হত ভুয়ো নথি দিয়ে তৈরি করা পাসপোর্ট। অভিযোগ, সেগুলি নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলে গিয়েছেন ওই বাংলাদেশি নাগরিকেরা। গত এক বছরে কত সংখ্যক ভুয়ো পাসপোর্ট থানাগুলি বাজেয়াপ্ত করেছে বা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, সেই রিপোর্ট জমা দিতে বলল লালবাজারের নির্বাচনী সেল। একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট মামলায় পৃথক ভাবে কত ভুয়ো নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তা-ও জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ওই হিসেব জানাতে বলা হয়েছে সব থানাকে। যা রিপোর্ট আকারে মঙ্গলবারের মধ্যে পাঠাতে হবে। এক পুলিশকর্তা জানান, এ বারই প্রথম নির্বাচন কমিশন ভুয়ো পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়েছে। সেই তথ্য একত্র করে আগামী সপ্তাহের মধ্যে কমিশনে পাঠানো হবে নির্বাচনী সেলের তরফে।
উল্লেখ্য, ভুয়ো পাসপোর্টের এই মামলায় প্রথমে সিকিয়োরিটি কন্ট্রোল অর্গানাইজ়েশন (এসসিও) তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার দেওয়া হয় লালবাজারের গোয়েন্দাদের হাতে। তদন্তে জানা যায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের ১২১টি ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করেছিল চক্রটি। যার মধ্যে আঞ্চলিক পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের তরফে ৭০টিরও বেশি পাসপোর্ট দেওয়া হয়ে গিয়েছিল। তৈরির অপেক্ষায় ছিল আরও প্রায় ৫০টি পাসপোর্ট। তার আগেই অবশ্য পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে। পরে তদন্তকারীরা অভিযুক্ত ১৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেন। যাঁদের মধ্যে ১২০ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। তাঁদের সকলকে পলাতক দেখিয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়।
অন্য দিকে, নির্বাচনের জন্য কলকাতা পুলিশ এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী কোথায় থাকবে, সেই সব জায়গা কী অবস্থায় রয়েছে— সে সব খোঁজ নিয়ে রিপোর্ট পাঠানোর জন্য থানাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। থানাগুলির তরফে সেই রিপোর্ট পাঠিয়েও দেওয়া হয়। এ বার কোন স্কুলে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের সিট পড়বে না, তা জানানোর নির্দেশ দেওয়া হল থানাগুলিকে। আজ, শনিবারের মধ্যে তা জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হচ্ছে চলতি বছরের মাধ্যমিক। তার পরেই রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক। মনে করা হচ্ছে, ভোটের দিন ঘোষণার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে এলে তাদের রাখতে যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, তার জন্যই এই তালিকা।