এই সময়: চ্যালেঞ্জটা নেওয়া হয়েছিল গত বছরের বইমেলায়। ৫০ জন নতুন লেখকের ছোট গল্প নিয়ে পথ চলা শুরু করেছিল ‘এই সময়’–এর ‘গল্প স্বল্প’। সেই পথচলা দ্বিতীয় বছরে পড়ল। দু’মলাটের মধ্যে কল্পনার প্রবাহ নদীখাতের মতো বয়ে চলেছে। এই বছরও পাঠকদের জন্য নতুন ৫০ জন তরুণ লেখকের গল্পের পসরা সাজিয়ে তৈরি ‘গল্প স্বল্প’ পর্ব–২।
এই বইয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো শুক্রবার, বইমেলায় ‘এই সময়’–এর প্যাভিলিয়নে।বইমেলার চার নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে একটু সোজা এসে বাঁ–দিকে ঘুরলেই ‘এই সময়–’এর প্যাভিলিয়ন। ১৯৮ নম্বর স্টল। সেখানেই তরুণ লেখকদের সাত রঙের কল্পনা ছাপার অক্ষরে সংগ্রহ করতে পারবেন পাঠকরা।
‘গল্প স্বল্প’ পর্ব–২–এর উদ্বোধন করলেন কবি ও সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদার। তিলোত্তমার আরও একটি পরিচয় হলো, তিনি গতবারের মতো এই বছরও ‘গল্প স্বল্প’–র অতিথি সম্পাদক।
ছোট গল্পের প্রতি সারা পৃথিবীর পাঠকদের একটা স্বাভাবিক আকর্ষণ কাজ করে। আসলে ছোট গল্প এই বিশাল জীবনের খণ্ডিত আলোকমালা। রুশ লেখক আন্তন চেখভের মতে, ছোট গল্প হলো, ‘স্লাইস অফ লাইফ’ অর্থাৎ একফালি জীবন।
খণ্ড খণ্ড ঘটনা, টুকরো চিত্রের মাধ্যমে পাঠকের সামনে তুলে ধরা এক সম্পূর্ণ জগতের চিত্র। তিলোত্তমার কথায়, ‘বাংলা ছোট গল্পের স্রষ্টা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, ছোট গল্প মানে যা শেষ হয়েও শেষ হয় না। এই অতৃপ্তি লেখক এবং পাঠকের যৌথ নিয়তি।’
এ দিন ‘এই সময়’–এর প্যাভিলিয়নে ভিড় করে বহু গুণমুগ্ধ পাঠক এই বইয়ের উদ্বোধনের সাক্ষী থেকেছেন। শুনেছেন আলোচনা। ছোট গল্পই ছিল যে আলোচনার মূল বিষয়। ‘এই সময়’- কে ধন্যবাদ জানিয়ে বিনায়ক বলেন, ‘পরপর দু’বছর মোট ১০০ জন নতুন লেখককে আবিষ্কার করার জন্য আমি এই সময়কে কুর্নিশ জানাই। এটা বাংলা সাহিত্যের একটা বড় প্রাপ্তি। এই ধন্যবাদ অন্যরাও পেতে পারতেন। তবে এই সময়ের মতো করে তাঁরা ভাবেননি।’
ঘটনা হলো, ‘এই সময়’ প্রথম দিন থেকেই ভেবেছিল এই ‘গল্প স্বল্প’–এ এমন লেখকদেরই গল্প ছাপা হবে, যাঁদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি নয়। খুব অল্প সময়ের নোটিসে গত বছর এই বইয়ের প্রথম পর্ব প্রকাশিত হয়। বইমেলায় এই বইয়ের প্রায় প্রতিটি কপিই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। এই অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়ার পরে এই বছরও সেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়। যেখানে আরও নতুন ৫০ জন লেখকের গল্প বেছে নিয়েছেন সম্পাদক তিলোত্তমা। এ দিন তিনি গল্প লেখকদের পাশাপাশি বিশেষ ধন্যবাদ জানান এই বইয়ের অলঙ্করণের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের। তাঁরাও বয়সে নবীন।
তিলোত্তমার কথায়, ‘প্রতিটি অলঙ্করণ যেন আবার আলাদা আলাদা গল্প বলে। গত বছরের তুলনায় এ বছরের অলঙ্করণ আরও পরিণত এবং মনোগ্রাহী।’ বিনায়ক বারবারই তাঁর বক্তব্যে ফিরে গিয়েছেন নতুন লেখক এবং নতুন ধারার লেখার গুরুত্ব প্রসঙ্গে।
তাঁর সংযোজন, ‘আমি অনুরোধ করতে চাই, প্রথম বইটি যেন আবার রি–প্রিন্ট করা হয়। আর তিন নম্বর পর্ব নিয়েও যেন ভাবনা–চিন্তা শুরু হয়।’ গতে বাঁধা লেখা থেকে বেরিয়ে বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা তৈরির আহ্বান জানান তিলোত্তমা। নতুন লেখকদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করারও পরামর্শ দেন তিনি।
বইমেলার ধুলো মেখে, গার্গী ও শ্রেয়সীদের সঙ্গে পাঠকের গন্তব্য হয়ে উঠুক ‘এই সময়’–এর প্যাভিলিয়ন। যেখানে ‘গল্প স্বল্প’–র সঙ্গে প্রতিদিন থাকছে অ্যাঙ্কর হান্ট, কুইজ়। বাড়তি পাওনা বিশিষ্টদের আলোচনা। তাঁদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও।