• বিপদ আঁচ করলেই বন্ধ হবে দরজা, রয়েছে স্বয়ংক্রিয় আলো, বন্যপ্রাণীর আক্রমণ রোধে অভিনব ‘সেফ হাউস’
    এই সময় | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
  • কুলতলি হোক বা পীরখালি— বাঘের হানায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে অহরহ। জনবসতি এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপ দেখলেই গোটা গ্রাম জুড়ে আতঙ্কে কাঁটা হয়ে থাকেন বাসিন্দারা। বন দপ্তরকে তড়িঘড়ি শুরু করতে হয় বাঘের খোঁজ। বাঘ-মানুষের এই সংঘাত দূর করতে এক নজির তৈরি করল উত্তরপ্রদেশের পিলিভিট। বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে তৈরি করা হচ্ছে ‘সেফ হাউস’। তাহলে কি মুক্ত বনাঞ্চলে ঘুরবে বাঘ, মানুষ থাকবে খাঁচায়? বিষয়টি ঠিক কেমন?

    নবভারত টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইচ জেলার দুধওয়া টাইগার রিজার্ভ সংলগ্ন কাটারনিয়াঘাট বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নিকটবর্তী গ্রামবাসীদের জন্য করা হয়েছে একটি পাইলট প্রজেক্ট। স্থানীয় লোহরা গ্রাম থেকে কাজ শুরু করা হয়েছে। গ্রামেই তৈরি করা হয়েছে ‘প্রিডেটর প্রুফ হাউস’। এই ক্লাস্টারগুলিতে এমন সুবিধা থাকবে যা মানুষকে বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।

    ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার কনফ্লিক্ট মিটিগেশন বিভাগের প্রধান অভিষেক ঘোষাল ওই সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই বাড়িগুলিতে ধাতব দরজা রয়েছে যা বিপদ আঁচ করতে পারলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এখানে মোশন সেন্সিং লাইট রয়েছে। যা সামান্য নড়াচড়াতেই জ্বলে উঠবে। এই লাইটগুলো একটি সৌরশক্তি চালিত জেনারেটরের সঙ্গে সংযুক্ত। এছাড়াও, জরুরি অবস্থার জন্য একটি হুটার সিস্টেমও রয়েছে। এর পাশাপাশি, বাঘ ও চিতাবাঘের মতো বন্য প্রাণীদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পরামর্শমূলক নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে।

    নিকটবর্তী ৬টি গ্রামে এই ধরনের ‘প্রিডেটর প্রুফ হাউস’ ক্লাস্টারগুলি তৈরি করা হচ্ছে। মাটি থেকে এগুলি ১২ থেকে ১৫ ফুট উঁচু। ১৬ মিটার লম্বা এবং ৩৩ মিটার চওড়া এই ক্লাস্টারগুলি তৈরিতে খরচ হচ্ছে ১.৫ লক্ষ টাকা। বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে একটি অ্যালার্ম সিস্টেম থাকছে। কোনও বিপদে পড়লেই তা বাজিয়ে সতর্ক করার ব্যবস্থা রয়েছে।

    কাটারনিয়াঘাট বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ৫০০টির বেশি পরিবার বিশ্বাস করেন। বন্যপ্রাণীদের আক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই তাঁদের বসবাস। প্রতি বছরেই এই এলাকায় বন্যপ্রাণীর আক্রমণের কারণে গড়ে ৭-৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়। সেই বিপদ কী কমবে? আশায় সেখানকার বন দপ্তর।

  • Link to this news (এই সময়)