জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। ১৫০ বছর পূর্তিতে এ বার ‘জনগণমন’-র মতো ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময়েও নির্দিষ্ট নিয়ম এবং আচরণবিধি বেঁধে দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি মাসের শুরুতেই এই নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানেই এই সংক্রান্ত নিয়মনীতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, জাতীয় গানের অবমাননার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান রাখা হবে কি না, সেই নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় গানের প্রোটোকল তৈরি নিয়ে বৈঠক ডেকেছিল অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রকের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে কোন পরিস্থিতিতে জাতীয় গান গাওয়া হবে, জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গেই গাওয়া হবে কি না, জাতীয় গানের অবমাননার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান কী হবে, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এই নিয়ে মুখ খোলেননি কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও আধিকারিকও।
গত কয়েক বছরে জাতীয় গান গাওয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরির দাবিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। ১৯৭১-এর প্রিজার্ভেশন অফ ইনসাল্ট টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট-এর আওতায় জাতীয় গানের অবমাননায় শাস্তির দাবিও উঠেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া আটকানো বা গাওয়ার সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান থাকলেও, জাতীয় গানের ক্ষেত্রে তেমন কিছু নেই। এই আবহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গত বছরের শীতকালীন অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’-কে ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল সাংসদ। সংখ্যালঘু তোষণের জন্যই জাতীয় গানের ছয়টি স্তবকের মধ্যে চারটি স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। একই সুরে তোপ দেগেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। যদিও কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই জাতীয় গানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি।
উল্লেখ্য, ১৮৭৫ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বন্দে মাতরম। সেই সময়ে অবশ্য এই গান নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে এই গানটি জুড়ে দেন তিনি। তার পরেই ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে যায় বন্দে মাতরম। স্বাধীনতার পরে এই গানকে জাতীয় গানের মর্যাদা দেওয়া হয়। তবে গাওয়ার ক্ষেত্রে তেমন কোনও বিধিনিষেধ বা নিয়ম নেই। এ বার তা চালু করার প্রয়োজন নিয়েই ভেবে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার।