শীত বিদায়ের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। সরস্বতী পুজোর পরেও রাজ্যজুড়ে ঠান্ডার দাপট বজায় থাকলেও, আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী খুব শিগগিরই আবহাওয়ায় বদল আসতে চলেছে। শনিবার সকালেও কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়ায় শীতের অনুভূতি ছিল স্পষ্ট। তবে এই পরিস্থিতি আর বেশি দিন স্থায়ী হবে না বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে হাওয়া অফিস।
আলিপুর সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামতে পারে ১৫ ডিগ্রির আশপাশে। ভোর ও সকালের দিকে কুয়াশার প্রভাব থাকলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আকাশ পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রবিবার থেকেই তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস।
দক্ষিণবঙ্গে আপাতত কোনও চরম আবহাওয়ার আশঙ্কা নেই। ভোরের দিকে কুয়াশা থাকলেও বৃষ্টি বা ঝড়ের কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আবহাওয়াবিদদের মতে, পাকিস্তান ও জম্মু-কাশ্মীর অঞ্চলে সক্রিয় পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে সরে আসছে। এর পাশাপাশি ২৬ জানুয়ারি আরও একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয় হতে পারে, যার জেরে দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়বে। যদিও তাপমাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিললেও, জানুয়ারি মাসের বাকি দিনগুলিতে শীত পুরোপুরি বিদায় নেবে না বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের ছবিটা এখনও আলাদা। সেখানে শীতের দাপট আপাতত কমার কোনও লক্ষণ নেই। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় তেমন কোনও পরিবর্তন হবে না। পাহাড়ি অঞ্চলে, বিশেষ করে দার্জিলিঙে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে। সমতলের জেলাগুলিতেও রাতের তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা বাড়লেও তা এখনই গরমে রূপ নেবে না। আগামী সপ্তাহজুড়ে ধীরে ধীরে পারদ চড়লেও শীতের হালকা আমেজ বজায় থাকবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সকালের দিকে ঠান্ডা ও কুয়াশার অনুভূতি পাওয়া যেতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীত শেষের পথে হলেও একেবারে বিদায় নিতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। দক্ষিণবঙ্গে উষ্ণতার ইঙ্গিত মিললেও, উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য শীতের স্পেল আরও কয়েকদিন স্থায়ী হতে চলেছে।