মনোরঞ্জন মিশ্র: সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করতে গিয়ে নিজেই বেফাঁস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ তথা রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। পুরুলিয়া শহরের রাঁচি রোডে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো প্রথমে বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পতিদাহ প্রথার জনক। তিনি পুরুলিয়ায় এসে মেগা শো করে গিয়েছেন জনগণের ট্যাক্সের টাকায়।" এরসঙ্গেই তিনি বলে বসেন, "আমরা জানি সতীদাহর জনক রাজা রামমোহন রায়।" বিজেপি সাংসদের এহেন বেফাঁস মন্তব্য সামনে আসার পরই বিতর্ক ছড়িয়েছে।
গত ২১ তারিখ হুড়ার লধুড়কার চন্ডেশ্বর ময়দানে রণসংকল্প সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে সামনাসামনি বসে উন্নয়নের রিপোর্ট তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, মোদি সরকারের ১২ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসার জন্য। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গত ১৫ বছরের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসবেন। এই প্রসঙ্গে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, "আপনার ২০১৪ সালে রাজনীতিতে হাতেখড়ি । তার অনেক আগে থেকে ছাত্র ও যুব রাজনীতি করে আসছি । আপনার জায়গায় যদি পিসিমণি যদি বসেন তাহলে ভালো হয় । তার সঙ্গেই পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতবর্ষের উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করব।"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, কলকাতা থেকে পুরুলিয়া যাওয়া আসার প্রতিটি ট্রেন দেরিতে চলে। এই নিয়ে একটিও চিঠি তিনি মোদীকে লিখেননি । এই প্রসঙ্গে জ্যোতির্ময় সিং মাহাত বলেন, “কিছু মেরামতির জন্য বিলম্ব হচ্ছিল এখন তা অনেকটাই কেটে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন রেলমন্ত্রী ছিলেন। পুরুলিয়া- ঝাড়গ্রাম রেলপথের সার্ভে কি তিনি করাতে পেরেছিলেন? আমরা শুধু সার্ভে নয়। রুট চার্ট প্রস্তুত করেছি। যে রাজ্য সরকার একটা ফ্লাইওভার বানাতে এনওসি দেয় না, তারা এতটা জমি দেবে?”
তৃণমূলের জনসভা থেকে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বিজেপিকে ক্যান্সারের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন । সেই প্রসঙ্গে জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর পাল্টা তোপ, ভারতবর্ষের অধিকাংশ মানুষকে তিনি ক্যান্সার রোগী বলছেন। অধিকাংশ বাঙালি বিজেপি করেন। তাদেরকেও তিনি ক্যান্সার রোগী বলছেন।
অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেছিলেন, সিপিএমের হার্মাদরা এখন বিজেপির জল্লাদ। তার জবাব দিতে গিয়ে সাংসদ জ্যোতির্ময় এদিন বলেন, “দলবদলের ইতিহাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে ভালো কেউ জানেন? প্রথমে কংগ্রেস। পরে তৃণমূল গড়ে বিজেপির সঙ্গী হন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারীর হাতে পায়ে ধরে দলকে দাঁড় করিয়ে ফের কংগ্রেস জোটে গিয়েছেন। মাওবাদীদেরও ডেকে এনেছে তৃণমূল। তাদের দলের বিভিন্ন পদে প্রাক্তন মাওবাদীরা রয়েছেন।”