রণজয় সিংহ: দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। এবার হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম নজর টানতে চলেছে মিম। শোনা যাচ্ছে, এবার ভোটে বাংলায় ১০০-র বেশি আসনে প্রার্থী দিতে পারে মিম। এককভাবেই কি ভোটে লড়বে মিম নাকি জোট বেঁধে? সেই প্রশ্নের এখনও কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। তবে এই প্রসঙ্গে মিমের উত্তর জোনের সভাপতি মতিউর রহমান 'বড় কথা' বললেন।
তৃণমূল ও বিজেপি ছাড়া সকল রাজনৈতিক দলকেই জোটে করার আহ্বান মিমের। মালদার চাঁচলে দলের কর্মী সভায় একথা বলেন মিম দলের উত্তর জোনের সভাপতি মতিউর রহমান। তিনি বলেন, তৃণমূল ও বিজেপি একই দল। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, বাংলার স্বার্থে এক হওয়ার জন্য যদি সকলে এগিয়ে আসে ও তাদের যথাযথ আসন দেওয়া হয়, তবে জোট করতে কোনও আপত্তি নেই। আসন্ন বিধানসভাতে ১০০-র বেশি আসনে লড়াই করতে চায় তারা। মিমের মালদা জেলার সভাপতি রেজাউল করিম দাবি করেন, প্রতিদিন তাদের সংগঠন শক্তিশালী হচ্ছে। মালদার ১২টি বিধানসভার মধ্যে ৮ থেকে ১০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মিম। চাঁচলের তৃণমূল বিধায়ককে পরাস্ত করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। আর তারই রণকৌশল নির্ধারণের জন্য চাঁচলে মিমের তরফে কর্মী বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল।
যদিও চাঁচল বিধানসভার তৃণমূলের বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষের দাবি, বাজার গরম করার জন্য এমন কথা বলা হচ্ছে। বাংলা বা চাঁচলের বাসিন্দারা মিম দলকেই চেনেন না। মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের কর্মকান্ডের উপর মানুষের আস্থা আছে। তাই তৃণমূল-ই জিতবে। বিজেপিকে সুবিধা করতে মিম ও অন্যান্য দল এই বাংলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আসছে। ওদিকে বিজেপির মালদার উত্তর সাংগঠনিক সভাপতি প্রতাপ সিংহ বলেন, সংখ্যালঘুরা তৃণমূল শাসনে বঞ্চিত। তাই বিকল্প পথ খুঁজছে। তৃণমূল যে শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে সংখ্যালঘুদের ব্যবহার করেছে, আজ সংখ্যালঘুরা তা বুঝতে পেরেছে। তাই তৃণমূলের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
এদিকে মিমের দাবি, ক্ষমতায় আসলে রাজ্য সরকারের রূপশ্রী প্রকল্পের অনুদান ২ লক্ষ টাকা করা হবে। চাঁচলের কর্মী সভায় এমনই ঘোষনা করলেন দলের মালদা জেলার সাধারণ সম্পাদক এমডি কাবির। তোপ দাগেন, তৃণমূল সরকার প্রকল্পের নামে ভিক্ষা দিচ্ছে। তা পেতে দিতে হয় কাটমানি। তারা ক্ষমতায় এলে কোনও কাটমানি লাগবে না। পশ্চিমবাংলায় হায়দরাবাদ মডেল তৈরি করবেন। বিবাহযোগ্য মেয়েদের উপযুক্ত প্রমাণপত্র জমা দিলে ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। এমডি কাবির আরও দাবি করেন, তৃণমূল ও বিজেপি সেটিং রয়েছে। তৃণমূল শাসনে বঞ্চিত হয়েছেন সংখ্যালঘুরা। শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ তৃণমূল সরকার।
তোপ দাগেন, এসআইআর থেকে ওয়াকফ বিল সবই বিজেপির নির্দেশে কার্যকর করছে তৃণমূল সরকার। শুধু তাই নয়, বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকেরা আক্রান্ত হচ্ছেন। সবই বিজেপি ও তৃণমূলের ষড়যন্ত্র বলে দাবি মিমের জেলা সম্পাদকের। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা চাঁচল বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষ মিমের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন। জানান এমন ভাষা কোনও রাজনৈতিক ভাষা নয়। যারা রাজনীতির ভাষা জানে না, তারা বলছে ২ থেকে ৫ লক্ষ করে টাকা দেবে! এইসব ভোটের আগে বাজার গরম করার চেষ্টা। বিজেপিকে সুবিধা করতে এই ষড়যন্ত্র । তবে তা সফল হবে না।