'দরকারে পকেট থেকে খরচ করতে হবে', SIR নিয়ে কর্মীদের কড়া বার্তা অভিষেকের
আজ তক | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ওয়ার রুমে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত নয়। বুথ ধরে ধরে সংগঠনকে শক্ত করে ভোট রক্ষার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দলের মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দায়িত্ব পেয়ে গা ঝাড়া দিয়ে বসে থাকলে দল পাশে দাঁড়াবে না, তিনি সাংসদই হন বা বিধায়কই হন।
বৈঠকে অভিষেক ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, দলের একাধিক জায়গায় ওয়ার রুম ঠিকমতো কাজ করছে না। আত্মতুষ্টি বা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের কোনও জায়গা নেই বলেও কড়া সতর্কবার্তা দেন তিনি। অভিষেকের কথায়, 'আপনাকে যদি দায়িত্ব দেওয়া হয়, আর আপনি ভাবেন কাজ না করলেও চলবে, তাহলে ভুল করছেন। নিজের দায়িত্ব পালন না করলে দল আপনার পাশে থাকবে না।'
এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে আগামী কয়েক মাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন অভিষেক। তিনি জানান, নভেম্বরেই দলকে সতর্ক করা হয়েছিল যে এই লড়াই অন্তত ছ’মাসের। ইতিমধ্যেই তিন মাস কেটে গিয়েছে, সামনে এখনও প্রায় ১০০ দিন সময় রয়েছে। অথচ এসআইআর সংক্রান্ত কাজে হাতে রয়েছে মাত্র ২২ দিনের মতো সময়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনের সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নামার নির্দেশ দেন তিনি।
ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যেই শুনানি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে বলেও জানান অভিষেক। তালিকা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই সমস্ত বিএলএ-২ এবং বুথ সভাপতিদের নিয়ে বুথভিত্তিক 'ভোট রক্ষা কমিটি' গঠনের নির্দেশ দেন তিনি। অভিষেক বলেন, 'একটাও কেস যেন মিস না হয়। যাঁদের নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকায় এসেছে, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। এক কোটি ৩৬ লক্ষ এবং আনম্যাপ ৩২ লক্ষ, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে আমাদের পৌঁছতেই হবে।'
সাংসদদের উদ্দেশে অভিষেক বলেন, সংসদের অধিবেশন ছাড়া বাকি সময় নিজেদের এলাকায় থাকতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি স্পষ্ট করে দেন, 'ধীরে চলো' নীতিতে বিশ্বাস করলে এখনই ঘুম ভাঙাতে হবে। দিল্লি বা হরিয়ানায় যা হয়েছে, বাংলাতেও সেই একই কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে অভিষেক অভিযোগ করেন, বাংলাতেও একই ধরনের ছক কষা হচ্ছে। তাঁর দাবি, একসঙ্গে ১০টির বেশি ফর্ম জমা দেওয়া আইনত অপরাধ হলেও বিজেপির কর্মীরা বস্তাভর্তি ফর্ম নিয়ে ঘুরছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের ওয়ার রুম সক্রিয় না থাকলে বিজেপি আরও বেশি সুযোগ পেয়ে যাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সাংসদ ও বিধায়কদের উদ্দেশে আরও কড়া বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, 'দলের জন্যই আপনারা আজ জনপ্রতিনিধি। মানুষের জন্য লড়াই করতে হলে প্রয়োজনে নিজের পকেট থেকেও খরচ করতে হবে।' তিনি মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল কংগ্রেস অন্য দলের মতো জনপ্রতিনিধিদের থেকে পার্টি ফান্ডে কোনও নির্দিষ্ট শতাংশ দাবি করে না।
শেষে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় জানান, এক কোটি ৬৮ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তুলতেই হবে। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে সংগঠনকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রাখতে কোনও রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না, এটাই তাঁর সাফ বার্তা।