বিধানসভা ভোটের আগে মালদহে ওয়েইসির দল AIMIM এ যোগ বহু TMC কর্মীর
আজ তক | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
চলতি বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্য রাজনীতির ময়দান। এ বার সংগঠন মজবুত করার চেষ্টায় আসাদুদ্দিন ওয়েইসির দল AIMIM । বিশেষ করে মালদহ জেলায় দলের সক্রিয়তা নতুন করে নজর কেড়েছে রাজনৈতিক মহলের। এই আবহেই মালদা থেকে এল বড় খবর। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে প্রায় হাজার খানেক পরিবার মিমে যোগ দিল বলে দাবি করা হয়েছে। রতুয়া এক নম্বর ব্লকে আয়োজিত এক যোগদান কর্মসূচিতেই এই দলবদল ঘটে। মিমের রতুয়া এক নম্বর ব্লক সভাপতি শেখ জাহাঙ্গিরের হাত ধরেই তৃণমূল ছেড়ে মিমে যোগ দেন ওই পরিবারগুলি। এই ঘটনাকে ঘিরে জেলায় রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।
উল্লেখ্য, মালদহ জেলায় মোট ১২টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই জেলায় আটটি আসন দখল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি চারটি আসন গিয়েছিল বিজেপির ঝুলিতে। সেই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসকদল ছেড়ে মিমে যোগদানের ঘটনা রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, এই যোগদান ভবিষ্যতে মালদহের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই প্রসঙ্গে মিমের রতুয়া এক নম্বর ব্লক সভাপতি শেখ জাহাঙ্গির বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্র মিম দখল করবে। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে শাসকদলের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষের কথাও উঠে আসে।
তবে মিমের এই দাবি ও যোগদান কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতা তথা মালদহ জেলা সহ-সভাপতি শুভময় বসুর দাবি, বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মিম এই ধরনের লোক দেখানো যোগদান করাচ্ছে। তাঁর কথায়, বাস্তবে এর কোনও রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে না। তৃণমূল এখনও এলাকায় শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্য দিকে, এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের সমালোচনায় সরব হয়েছে বিজেপি। যদিও বিজেপির তরফে কীভাবে এই যোগদানকে দেখা হচ্ছে, তা নিয়ে সরাসরি কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, মালদার মতো সংবেদনশীল জেলায় ভোটের আগে এই ধরনের দলবদল নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে।সংবাদদাতা: মিলটন পাল