মনোজ মণ্ডল: চিকিৎসা করিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে রাস্তায় হারিয়ে ফেলেছিলেন পাসপোর্ট। সেই পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিলেন টোটো চালক রাজু মৃধা। এসআইআর এর আবহে বনগাঁয় বড় বিপদ থেকে বাঁচলেন বাংলাদেশি নাগরিক মিতালী দাস।
শনিবার সকালে বনগাঁ স্টেশন সংলগ্ন টোটো ইউনিয়নের টোটো চালক রাজু মৃধা প্যাসেঞ্জার নিয়ে যাওয়ার পথে বনগাঁ হীরালাল মূর্তির সামনে একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সমস্ত টোটো ও অটো ইউনিয়নকে খবরটি জানিয়ে দেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশি মহিলা মিতালী দাস পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ ফেরার পথে লক্ষ্য করেন তার পাসপোর্টটি নেই। হন্তদন্ত হয়ে যে পথে এসেছিলেন সেই পথেই খোঁজ করতে থাকেন। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় খোঁজ করতে করতে জানতে পারেন একজন টোটো চালক সেই পাসপোর্ট পেয়েছেন। টোটো ইউনিয়নে গিয়ে যথাযথ প্রমাণ দিয়ে পাসপোর্ট ফেরত পান তিনি। হাঁফ ছেড়ে বেঁচে বাংলাদেশে পাড়ি দেন মিতালী।
ওই ঘটনার পর টোটো ইউনিয়নের চালকরা বলেন বাংলাদেশের অনেকে আছে ভারত বিরোধী কথাবার্তা বলে তবে আমরা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখি। প্রতিবেশী দেশ মিত্র দেশ দুই দেশের সম্পর্ক ভালো থাকুক। এই চিন্তা ভাবনা থেকেই একজন বাংলাদেশি প্যাসেঞ্জারকে সাহায্য করা। এছাড়াও আমাদের টোটো অটোতে যে প্যাসেঞ্জারা ওঠেন তাদের কোন কিছু হারিয়ে গেলে বা গাড়িতে ভুলে গেলে আমরা সেটা আমাদের ইউনিয়নে জমা রাখি এবং প্যাসেঞ্জারের হাতে ফিরিয়ে দিই।
মিতালী দাস বলেন, আমার পাসপোর্ট হারিয়ে গিয়েছিল। সেটা শেষপর্যন্ত ফেরত পেয়েছি। স্টেশন চত্বরে এই টোটোচালক দাদা পেয়েছিলেন। সেটা তিনি ফেরত দিয়েছেন। ওঁকে অনেক ধন্যাবাদ। না পেলে বিপদে পড়ে যেতাম।
টোটোচালক অনিমেশবাবু বলেন, আমরা চাই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো হোক। বাংলাদেশিরা নেই। আমাদের একটু সমস্যা হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ। করে খেতে পাচ্ছি না। দুদেশের ব্যবসা বাণিজ্য ভালো হোক, এটাই আমরা চাই। আজ সকাল দশটা নাগাদ উনি পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেন। উনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছিলেন চিকিত্সার জন্য। চিকিত্সা করানো হয়ে গিয়েছে। উনি ফিরে যাচ্ছিলেন। পথে ওঁর পাসপোর্টটি পড়ে যায়। আমাদের এক ড্রাইভার সেটি পায়। সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সব টোটো ইউনিয়ন, অটো ইউনিয়নে খবর দিই। খবর পেয়ে উনি এসে প্রমাণ দিয়ে তাঁর পাসপোর্ট নিয়ে গিয়েছেন। সব টেটোওয়ালাদের কাছে অনুরোধ, কেউ কিছু পেলে সে যেন তা ইউনিয়নে জমা দেয়। আমাদের কাছে অনেক কিছুই জমা রয়েছে। কেউ ফেরত নিতে আসেনি।