• স্ত্রীকে তার প্রেমিক দেওরের হাতে তুলে দেন ৭ দিন আগেই, এবার তাকে কুপিয়ে খুন স্বামীর
    ২৪ ঘন্টা | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • প্রদ্যুত্ দাস: কেরালায় কাজ করতেন ধুপগুড়ির শ্রীকান্ত বর্মন। সম্প্রতি বাড়ি ফিরে জানতে পারেন, স্ত্রী প্রতিবেশী দেওরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বাও। তার পরই স্ত্রীকে তার প্রেমিকের হাতে তুলে দেন শ্রীকান্ত। এখানেই বিষয়টি শেষ হয়ে গেল না।

    গত সপ্তাহে রবিবার ওই ঘটনার পর আজ শনিবার ঘটে গেল ভয়ংকর ঘটনা। দা দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করল শ্রীকান্ত বর্মন। জলপাইগুড়ির ধুপগুড়ির ২ নম্বর ওয়ার্ডের রায়পাড়া এলাকার ঘটনা। স্ত্রীকে খুন করে অস্ত্র হাতে থানায় দৌড়লেন শ্রীকান্ত। খবর জানাজানি হতেই তোলপাড় এলাকা।

    স্থানীয় মানুষজনের বক্তব্য, স্ত্রীর  পরকীয় সম্পর্কের কথা জানতে পেরেই শ্রীকান্ত স্ত্রীকে ওই যুবকের হাতে তুলে দেন। শনিবার সকালে শ্রীকান্ত ওই যুবকের বাড়িতে হাজির হন। তার পরেই ওই ভয়ংকর ঘটনা ঘটে যায়। পুলিস সূত্রে খবর, মৃতা মহিলার নাম সোমা রায় বর্মন(৩২)। পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।  স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, স্বামীই স্ত্রীকে খুন করেছে। ওর বউ অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল। আজ সকালে এসে ছেলেটা বউকে মার্ডার করে দিয়েছে। ঘটনার পরই অস্ত্র হাতে থানায় আত্মসমর্পণ করে শ্রীকান্ত। পুলিস তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

    উল্লেখ্য,  প্রতিবেশী দেওরের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন সোমা। প্রায় দেড় বছরের সেই সম্পর্কে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ২ সন্তানের মা সোমা। আর একথা জানতে পেরেই 'প্রেমিক'দেওরের হাতেই স্ত্রীকে তুলে দেন স্বামী শ্রীকান্ত। গত সপ্তাহের ঘটনা। স্ত্রী সোমা রায়ের সঙ্গে স্বামী শ্রীকান্ত রায়ের প্রায় দীর্ঘ ১৫ বছরের সংসার। কিন্তু ১৫ বছর সংসার করার পরেও স্বামী শ্রীকান্ত রায়,তাঁর স্ত্রী সোমা রায়কে প্রেমিক চিরঞ্জিত রায়ের হাতে তুলে দেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তারা সম্পর্কে দুজনে বৌদি ও দেওর। কাজের সুবাদে কেরালায় দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর ছিলেন শ্রীকান্ত রায়। সেখান থেকেই প্রতিনিয়ত টাকা পাঠাতেন স্ত্রীকে। আর সেই টাকা সোমা রায় তাঁর প্রেমিক চিরঞ্জিত রায়ের হাতে তুলে দিতেন। স্বামীকে ঠিকঠাক টাকার হিসাবও দিতে পারতেন না তিনি। এমনটাই অভিযোগ।  গত রবিবার রাতে পাড়া-প্রতিবেশীরদের একাংশের উপস্থিতিতে নিজে হাতেই স্ত্রী সোমা রায়কে প্রেমিক চিরঞ্জিত রায়ের হাতে তুলে দেন শ্রীকান্ত। মালাবদল করে বিয়ে দিলেন। করান মিষ্টিমুখও। বলাই বাহুল্য যে, এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। 

    গত ২৬ নভেম্বর পুরুলিয়ার আদ্রা থানার গগনাবাইদ গ্রামে স্ত্রীর ওপর নৃশংস হামলায় উত্তাল এলাকা। মঙ্গলবার নিজের বাড়িতে স্বামী মানস বাউরি কুড়ুল দিয়ে স্ত্রী অষ্টমী বাউরিকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করে পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে সাবিরডাঙ্গা গ্রামে অষ্টমী ও মানসের বিয়ে হয়। তাদের ৩ সন্তান রয়েছে। বিগত কয়েকদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া চলছিল। মঙ্গলবার সেই বিবাদ চরমে পৌঁছালে, মানস, স্ত্রীকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিসের অনুমান, স্ত্রীর পরকীয়ার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)