• মহিলা শৌচাগার থেকে উদ্ধার মোবাইল, অভিযোগ পেয়েই তদন্তে পুলিশ
    এই সময় | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সরকারি হাসপাতাল চত্বরে মহিলা শৌচাগার থেকে ফোন উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় এলাকায়। অভিযোগ পাওয়ার পরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এ দিকে ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রের খবর, গড়বেতা-২ নম্বর ব্লকের গোয়ালতোড় থানা এলাকায় কেওয়াকোল গ্রামীণ হাসপাতাল চত্বরে একটি মহিলা শৌচাগার রয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনও পাঁচিল না থাকায় রোগীর পরিজনেরা ছাড়াও স্থানীয় মহিলা ব্যবসায়ীরা ওই শৌচাগার ব্যবহার করেন। বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি দুপুরে মামণি মাহাতো নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ওই শৌচাগারে স্নান করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন, দরজার ঠিক উপরের কার্নিশে একটি ফোন রাখা রয়েছে। ফোনের ক্যামেরা তাঁর দিকে তাক করে রাখা ছিল বলেই ওই মহিলার অভিযোগ।

    পুলিশ সূত্রের খবর, এর পরে ওই মহিলা তাঁর স্বামীকে ডাকেন। তিনি ওই মোবাইল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে জমা দেন। সেই সঙ্গে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য আধিকারিক মলয় চোংদার গোয়ালতোড় থানায় ফোন করার পরে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পরে মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফেও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    অভিযোগ, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও এই ঘটনায় কাউকে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। শনিবার দুপুরে বিজেপির মহিলা মোর্চার তরফে হাসপাতালে ও গোয়ালতোড় থানায় এ নিয়ে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। সেখানে অভিযোগকারী ওই মহিলা ব্যবসায়ীও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় আমার এবং আমার আগে যে সমস্ত মহিলারা স্নান করতে বা শৌচকর্ম করতে গিয়েছিলেন, তাঁদের সম্মানহানি হওয়ার আশঙ্কা করছি। তাই অবিলম্বে সঠিক তদন্ত করে পুলিশ ব্যবস্থা নিক।’ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মলয় চোংদার বলেন, ‘মহিলার স্বামী ওই ফোন আমার হাতে দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ সেটি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়। আমরা এফআইআর দায়ের করেছি।’

    বিজেপি নেত্রী শম্পা ভট্টাচার্য বলেন, ‘এই ঘটনায় পুলিশ নিষ্ক্রিয়। ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও মহিলা সুবিচার পেলেন না।’ গড়বেতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীনবন্ধু মাহাত বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন। পুলিশও তদন্ত করছে। আমরাও চাই দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি পাক।’ তবে এ নিয়ে অহেতুক রাজনীতির প্রয়োজন নেই। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)