• বন্দেমাতরমকে জাতীয় সংগীতের সমমর্যাদার ভাবনা, বৈঠক কেন্দ্রের
    বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: জনগণমন’র মতোই এবার কি বন্দেমাতরম গাওয়ার সময়ও উঠে দাঁড়ানো বাধ্যতামূলক হচ্ছে? জাতীয় সংগীতের মতো জাতীয় গানের অবমাননা করলে হতে পারে জেল-জরিমানা! জানা গিয়েছে, জাতীয় গান বন্দেমাতরমকে এবার জাতীয় সংগীত জনগণমন’র সমান সাংবিধানিক ও আইনি মর্যাদা প্রদানের কথা ভাবছে কেন্দ্র। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধি তৈরির বিষয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আয়োজিত সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন অন্যান্য মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরাও। সম্প্রতি সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় বন্দেমাতরমের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন স্বয়ং প্রধামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূল সহ বিরোধী শিবিরের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। খোদ মোদির সেই বিড়ম্বনা ও বাংলার আসন্ন বিধানসভা ভোটের আবহে বন্দেমাতরম নিয়ে কেন্দ্রের এই নয়া উদ্যোগ নিশ্চিতভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ।বন্দেমাতরমের সার্ধশতবর্ষ পালন ঘিরে আলোচনায় উত্তপ্ত হয়েছিল সংসদের অধিবেশন। বিজেপির অভিযোগ ছিল, বন্দেমাতরমকে প্রাপ্য সম্মান দেয়নি কংগ্রেস। চিরকাল তোষণের রাজনীতি করেছে তারা। সেই কারণেই ১৯৩৭ সালের দলীয় অধিবেশনে বন্দেমাতরমের কলেবর ছেঁটে দিয়েছিল কংগ্রেস। পালটা কংগ্রেস  বলেছিল, বিজেপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাস বিকৃত করছে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে এটি সংক্ষিপ্ত আকারে জাতীয় গান হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। বাংলার আসন্ন বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে এই নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি।জাতীয় প্রতীকগুলিকে রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মান আইন তৈরি হয়েছিল। সেই আইনে জাতীয় সংগীত জনগণমন গাওয়ার ক্ষেত্রে বাধাদান বা বিঘ্ন সৃষ্টি অপরাধ। যদিও জাতীয় গান বন্দেমাতরমের ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নয়। শুধু তাই নয়, সংবিধানের ৫১ এ(এ) ধারায় জাতীয় সংগীত হিসাবে জনগণমন সাংবিধানকে ও বিধিবদ্ধ রক্ষাকবচ পায়। অর্থাৎ, জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সব দেশের নাগরিকের মৌলিক কর্তব্য। জাতীয় সংগীত গাওয়া বা বাজানোর ক্ষেত্রেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এগজিকিউটিভ অর্ডারে বিভিন্ন নিয়ম ও বিধি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যেমন, জাতীয় সংগীত গাওয়ার বা বাজানোর সময় উঠে দাঁড়াতে হয়। জাতীয় সংগীত সুনির্দিষ্ট আঙ্গিক ছাড়া অন্য কোনভাবে গাওয়া বা তার পরিবর্তন করা যায় না। কিন্তু জাতীয় গান বন্দেমাতরমের ক্ষেত্রে এই সাংবিধানিক বা বিধিবদ্ধ নিময়গুলি প্রযোজ্য নয়। জাতীয় সংগীতের মতোই জাতীয় গান হিসাবে বন্দেমাতরমের ক্ষেত্রেও এধরনের বিধি সুনিশ্চিত করা যায় কি না, তা নিয়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আয়োজিত বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। অবমাননাকারীর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জনগণমন-এর সঙ্গেই বন্দেমাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করা যায় কি না, তা নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)