• বিহারে প্রত্যন্ত গ্রামে আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের ‘সিমবক্স’
    বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • পাটনা ও নয়াদিল্লি: বিহারের ভোজপুর জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম। নারায়ণপুর অঞ্চলের ভালুনি। সেই গ্রামেরই একটি পলেস্তরা খসা বাড়িতে প্রতারণা চক্রের হদিশ। বেআইনি কলসেন্টার গড়ে চলছিল এই কারবার। এজন্য বসানো হয়েছিল সিমবক্স। পুলিশের তদন্তে এই তথ্য সামনে এসেছে। গত বছরের ২৩ জুলাই ওই বাড়িতে হানা দিয়ে উদ্ধার করা হয় ৩২ ও ২৫৬ স্লটের দুটি করে সিম বক্স। সঙ্গে ১৮৬টি সিম একাধিক রাওটার, বায়োমেট্রিক নমুনা সংগ্রহের ডিভাইস, মোবাইল, ল্যাপটপ, এটিএম কার্ড, সচিত্র পরিচয়পত্র ও ৮১ হাজার টাকা নগদ। আটক করা হয় বাড়ির মালিক মুকেশকে। তদন্তকারীদের দাবি, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়ার অপরাধ চক্র এই ঘাঁটি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ফোনকল করত। কোটি কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা করেছে তারা।  সিমবক্স কাণ্ডে তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই। গত ৯ জানুয়ারি এফআইআর দায়ের করেছে এই তদন্তকারী সংস্থা। বিহার পুলিশের ইকনমিক অফেন্সেস ইউনিট (ইওইউ)-এর ডিআইজি মানবজিৎ সিং ধিঁলো জানিয়েছেন, এই অবৈধ কারবারের জেরে টেলিকমিউনিকেশন দপ্তর অন্তত ৫০ কোটি টাকার রাজস্ব খুইয়েছে। পাশাপাশি, বহু মানুষকে সর্বস্বান্ত করা হয়েছে।গত বছর ৫ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে এই এলাকা থেকে ২০ হাজারের বেশি ফোন কল হয়। অথচ সেখানকার জনসংখ্যা মাত্র দু’হাজার।  কাজেই মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিপুল ফোন কলের বিষয়টি সাইবার বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে। ১০ জুলাই ইওইউকে তা জানায় পাটনার টেলিকম দপ্তর। তার ভিত্তিতে মোবাইল টাওয়ারের তথ্য, আইএমইআই নম্বর ও ফোন কল বিশ্লেষণ করে দেখেন তদন্তকারীরা। তাতেই ‘সিমবক্সে’র বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বেআইনি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ তৈরি করে প্রতারকরা। সিমবক্সের জন্য জিও, এয়ারটেল, ভোডাফোন, বিএসএনএলের সিম ব্যবহার হয়েছিল। এই প্রযুক্তির সাহায্যে বিদেশ থেকে আসা ফোনগুলিকে ডোমেস্টিক বা ঘরোয়া নম্বরে বদলে ফেলা হয়। দেখে মনে হবে, দেশের কোনও প্রান্ত থেকেই ফোন যাচ্ছে। ফলে টার্গেটকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা সহজ হয়ে যায়। ফোন কলের মূল উৎসও আড়ালে থাকে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সরকারেরও রাজস্ব ক্ষতি হয়।নারায়ণপুরের পাশাপাশি আরও ৬৭টি সন্দেহজনক নম্বরের তালিকা তুলে দেওয়া হয় তদন্তকারীদের হাতে। সেগুলি সবই মালদার দু’টি জায়গা (পয়েন্ট অব সেল) থেকে নেওয়া। তাতেই আধিকারিকরা নিশ্চিত হন, সিম জোগা‌ড় ঩থেকে শুরু করে সিমবক্স প্রযুক্তি—গোটা বিষয়ের নেপথ্যে বড়সড় পরিকল্পনা ও চক্র রয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ডিএসপি পঙ্কজ কুমারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে ইওইউ। বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আধিকারিকরা পাটনা থেকে নারায়ণপুর হয়ে ভালুনিতে হানা দেয়।
  • Link to this news (বর্তমান)