নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কাল, সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবস। তার দু’দিন আগেই রেল লাইনে বিস্ফোরণ। শুক্রবার রাতের ঘটনায় পাঞ্জাবের ফতেগড় সাহিব এলাকায় ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডরের (ডিএফসি) ট্র্যাক উড়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ওইসময় পণ্যবাহী করিডর দিয়ে যে মালগাড়ি যাচ্ছিল, তার লোকো পাইলটও এই বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পণ্যবাহী ট্রেনও। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস নিশ্চিত হয়েছে, রেল লাইন উড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিস্ফোরণ ঘটাতে আরডিএক্স ব্যবহার হয়েছে। নাশকতার উদ্দেশ্যেই এমন ঘটানো হয়েছে কি না, সেই ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ এবং পাঞ্জাবের পুলিস-প্রশাসন।পাঞ্জাব পুলিসের ডিআইজি (রোপর রেঞ্জ) নানক সিং দাবি করেছেন, এর কোনও বড় অভিঘাত হয়নি। কারণ বিস্ফোরণের প্রাবল্য ছিল একেবারেই কম। এমনকি সংশ্লিষ্ট লোকো পাইলটের আঘাতও তেমন গুরুতর নয়। তাঁর চোয়াল সামান্য কেটে গিয়েছে। পাঞ্জাব সরকার যতই এহেন ঘটনাকে গুরুত্বহীন করে দেওয়ার চেষ্টা করুক না কেন, সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এমন ঘটনাকে মোটেও হালকাভাবে নিতে চাইছে না রেল বিশেষজ্ঞ মহল। দিল্লি সহ দেশের সবক’টি রেলওয়ে স্টেশন জুড়ে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের তামাম রেলওয়ে নেটওয়ার্ক জুড়ে হাই অ্যালার্টও জারি হয়েছে। দিল্লিতে ইতিমধ্যেই কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করেছে পুলিস-প্রশাসন।এমনিতেই দিল্লিতে বিগত কয়েকদিন ধরে রিপাবলিক ডে প্যারেডের রিহার্সাল চলছে। তার রুট সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে দফায় দফায় নাকা চেকিং করছে দিল্লি পুলিস। চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক রাস্তা। কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছে দেশের রাজধানী শহরকে। এক হাজারেরও বেশি এইচডি সিসি ক্যামেরায় মোড়া হচ্ছে দিল্লিকে। পাশাপাশি ভিভিআইপি জোন কর্তব্যপথ এলাকায় তৈরি হচ্ছে ছ'টি সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম। সেই কন্ট্রোল রুমের অবস্থান গোপন থাকবে। এমনকি কিছু মেটাল কন্টেনারকে অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দিল্লি সীমানায় কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। দিল্লি-হরিয়ানার সিংঘু কিংবা তিক্রি সীমানা, দিল্লি-উত্তরপ্রদেশের গাজিপুর সীমানায় গাড়ি থামিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এমনকি শনিবার একই ছবি দেখা গিয়েছে শহরের মধ্যেও। সাধারণতন্ত্র দিবসে ‘২৬-২৬’ কোড নেমে জঙ্গি হানার আশঙ্কায় এমনিতেই সচেতন রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এহেন আবহে রেল লাইনে বিস্ফোরণ এবং এর জেরে তৎপরবর্তী প্রশাসনিক তৎপরতাকে উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।