• পর পর ভোটে জিতেও উন্নয়নে ব্যর্থ বিজেপি প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ জেলাবাসীর
    বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ২০১৪ সালের ২৫ জুন আলিপুরদুয়ারকে জেলা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা করেই মুখ্যমন্ত্রী আলিপুরদুয়ারে উন্নয়নের ডালি উপুড় করে দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও ২০১৯ ও ২০২৪, পর পর দু’বার লোকসভা নির্বাচনে জিতেছে বিজেপি। একুশের বিধানসভা ভোটে জেলার পাঁচটি আসনও নিজেদের দখলে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু বিজেপি আজ পর্যন্ত জেলায় কোনও প্রকল্পের কাজই করতে পারেনি বলে অভিযোগ জেলাবাসীর। তারপরেও কেন পদ্মশিবির আলিপুরদুয়ারে বার বার জিতছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর  চর্চা শুরু হয়েছে।জেলাবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েও বিজেপি দলগাঁও রেল স্টেশনে ডলোমাইট সাইডিং সরানো, হাসিমারায় বিমানবন্দর, জেলায় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা জংশনে রেলের জমিতে ২০০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করতে পারেনি। জেলাবাসীর অভিযোগ, উন্নয়নের কথা উঠলেই বিজেপির জন প্রতিনিধিরা অজুহাত দেখান রাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে না। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই ভোটের মুখে জেলাবাসী প্রশ্ন তুলছে রেলের জমিতে ২০০ বেডের হাসপাতাল তৈরির সঙ্গে রাজ্যের তো কোনও সম্পর্ক নেই। তাহলে রেলের জমিতে সেই হাসপাতাল কেন তৈরি হচ্ছে না?জেলা গঠনের পর উন্নয়নের ডালি দিয়ে অসম-বাংলা সীমানায় প্রান্তিক নতুন জেলা আলিপুরদুয়ারকে সাজিয়েছে রাজ্য। জেলার প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যা, ছয় তলা নতুন জেলা কোর্ট বিল্ডিং, আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, জেলা হাসপাতাল, একাধিক কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়ন, জেলা পুলিশ লাইন ও ঝাঁ চকচকে রাস্তাঘাট সহ জেলায় একাধিক উন্নয়ন হয়েছে। চা বাগানগুলিতে রাস্তাঘাট, পানীয় জল ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নও হয়েছে। ফলে নতুন জেলার উন্নয়নের প্রশ্নে কিন্তু সাধারণ জেলাবাসীর কোনও অভিযোগ নেই। জেলা হওয়ার পর আলিপুরদুয়ারে উন্নয়ন হয়নি তৃণমূলের অতি বড় শত্রুও তা বলতে পারবে না। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে এসে বলেছিলেন, আমরা বার বার আলিপুরদুয়ারে হারছি। তারপরেও কিন্তু এখানে রাজ্য সরকার উন্নয়নের কোনও কাজ বন্ধ করেনি।জেলাবাসী বিজেপিকে পর পর দু’বার লোকসভা ভোটে জিতিয়েছেন। একুশের বিধানসভা ভোটে জেলার পাঁচটি আসনেই জিতেছে বিজেপি। এর প্রতিদানে কি দিয়েছে বিজেপি? ভোটের মুখে এই প্রশ্নই তুলছেন জেলার মানুষ। শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পেশায় হাইস্কুল শিক্ষক রাতুল বিশ্বাস বলেন, পর পর তিনটি ভোটে জেলার মানুষ বিজেপিকে উজার করে ভোট দিয়েছেন। তারপরেও এই প্রকল্পগুলির একটিরও বাস্তবায়ন করতে পারেনি। বনচুকামারির বাসিন্দা রবীন্দ্র বর্মন বলেন, জেলায় বিজেপির উন্নয়নের কাজ করার কোনও সদিচ্ছা নেই। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রবীন বাসিন্দা জ্যোতির্ময় রায় বলেন, আমরা তো চাই জেলায় এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি হোক। কিন্তু বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেও তো কোনওটাই হচ্ছে না।তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশচিক বড়াইক বলেন, সাধারণ মানুষের মতো আমরাও তো বার বার সেই প্রশ্নই তুলছি। বিজেপি যে আসলে জুমলাবাজ পার্টি এতদিনে জেলার মানুষও বুঝতে পারছেন ভেবে ভালো লাগছে।যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি মিঠু দাস বলেন, ভোটের সঙ্গে আমাদের দল উন্নয়নের কাজকে গুলিয়ে ফেলে না। আজ বা কাল, এই সব কাজ কিন্তু জেলায় একদিন হবেই।
  • Link to this news (বর্তমান)