• শুনানিতে অসুস্থ হয়ে মৃত ব্যাক্তির পরিবারের পাশে তৃণমূলের প্রতিনিধিরা
    বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে এসে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় মৃত সুবোধ বল্লভের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল। শনিবার সকালে কালীগঞ্জ ব্লক তৃণমূলের তরফে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালি খাতুন, ব্লক তৃণমূল সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য নেতৃত্ব শীতলপুর গ্রামে সুবোধ বল্লভের বাড়িতে যান। তাঁরা মৃতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং সবরকম সাহায্যের কথা জানান।প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কালীগঞ্জের বিডিও অফিসে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে যোগ দিতে এসে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন সুবোধ বল্লভ (৫২)। কয়েকদিন আগেই তাঁর নামে নির্বাচন কমিশনের তরফে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। যদিও ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সুবোধবাবুর নাম ছিল। কিন্তু নামের বানান সংক্রান্ত ত্রুটির কারণেই নোটিস ইস্যু করা হয়েছে বলে অভিযোগ। শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কল্যাণী এইমসে পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ সেখানেই মৃত্যু হয় সুবোধবাবুর। মৃত ব্যক্তি  কালীগঞ্জ থানার বড় চাঁদঘর পঞ্চায়েতের শীতলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।এদিন ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, সুবোধবাবু একজন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। যখন ভোট আসে বিজেপি মতুয়াদের ঢাল করে রাজনৈতিক ফয়দা নেয়। কিন্তু তাঁদেরই আবার লাইনে দাঁড় করিয়ে চরম হয়রানি করা হয়। তখন আর মতুয়াদের কথা মাথায় আসে না বিজেপির। কালীগঞ্জে বিজেপির দাঁত ফোটানোর ক্ষমতা নেই। তাই মানুষকে এসআইআরের নামে শাস্তি দিচ্ছে। আমাদের দল সুবোধবাবুর পরিবারের পাশে রয়েছে।”কালীগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেফালি খাতুন বলেন, আমাদের জেলা সভাপতির নির্দেশে সুবোধবাবুর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে সুবোধবাবু অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন। এই শুনানি  নিয়ে ওঁর মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছিল। শুক্রবার রাতে এইমসে তিনি মারা যান। এর দায় শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের। বিজেপি কমিশনকে দিয়ে মানুষ মারার রাজনীতি করছে।উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই এসআইআর সংক্রান্ত আতঙ্কে নদীয়ায় একাধিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। হোগলবেড়িয়া থানার কুচাইডাঙ্গার বাসিন্দা, গৃহশিক্ষক ফিজুর খান (৫৪) গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে দায় ও শাস্তির আশঙ্কার কথা লেখা ছিল। পরিবারের দাবি, স্ত্রীর আধার ও ভোটার কার্ডে বয়সের ফারাক নিয়ে এসআইআর শুনানির চাপেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।অন্যদিকে, নাকাশিপাড়া থানার শালিগ্রামের বাসিন্দা সামির আলি শেখ (৬০) এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন। গত সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁর মৃত্যু ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্ক থেকেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। এ ছাড়াও এসআইআরের প্রথম পর্বে অতিরিক্ত কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে কৃষ্ণনগরের এক বিএলও আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ।
  • Link to this news (বর্তমান)