নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আজ, রবিবার নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের রানিচক সমবায় সমিতির নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ১৮ জানুয়ারি অর্থাৎ গত রবিবার রানিচক থেকে চার কিলোমিটার দূরে আমদাবাদ সমবায় সমিতির ভোট হয়েছিল। সেখানে ১২-০ আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। তারপর সপ্তাহ ঘুরতেই রানিচক সমবায়ে ভোট। এই সমবায়ে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল। কারণ, রানিচক সমবায়ে ৪৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী দিতে পারেনি বিজেপি। ওই পাঁচটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে তৃণমূল। আবার, আমদাবাদে পরাজয়ের পর রানিচক সমবায়ে জয়ে ফিরতে মরিয়া বিজেপিও। রানিচক, সাতেঙ্গাবাড়ি ও কিয়াখালি এলাকায় বিজেপির সংগঠন কিছুটা দুর্বল। সেজন্য নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বিজেপি নেতারা এখানে প্রচার করছেন। ২২ জানুয়ারি এনিয়ে দু’দলের মধ্যে ঝামেলা বাধে। এই পরিস্থিতিতে আজ, রবিবার রানিচক সমবায়ে ভোট ঘিরে বেশ উত্তেজনা রয়েছে। ভোট চলাকালীন গন্ডগোল মোকাবিলায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন থাকছে।নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের অধীন আমদাবাদ-২ পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে রানিচক সমবায় সমিতি। রানিচক, সাতেঙ্গাবাড়ি ও কিয়াখালি গ্রাম নিয়ে ওই সমিতির এরিয়া। মোট ভোটার ১০৪০ জন। আজ, রানিচক পিকে শিক্ষা নিকেতনে ওই সমিতির নির্বাচন হবে। মোট ৪৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফয়সালা হয়ে যাওয়ায় ৪০টি আসনে ভোট হবে। আমদাবাদ-২ গ্রাম পঞ্চায়েত, নন্দীগ্রাম-২ পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ আসনে বিজেপি হয়ী হলেও রানিচক সমবায় নিয়ে বেশ চাপে বিজেপি। সেজন্য ভোটের দিনও নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নেতাদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে খবর।২০২৫ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভায় বেশিরভাগ সমবায় সমিতির নির্বাচনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে বিরুলিয়া, সুবদি সহ একচেটিয়া সমবায়ে তৃণমূল হার স্বীকার করেছে। কিন্তু, নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়া সেবাশ্রয় শিবির চালুর পর থেকে ছবিটা বদলেছে। আমদাবাদ সমবায় সমিতিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ে অপ্রত্যাশিতভাবে ১২-০ আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। রানিচক নিয়েও জোড়াফুল শিবির বেশ আত্মবিশ্বাসী। তাই আজ, রবিবার লড়াই জমছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিজেপি নেতা তথা দলের জেলা পরিষদ সদস্য অরূপ জানা বলেন, সাতেঙ্গাবাড়ি এলাকায় তৃণমূলের লোকজন ভয় দেখিয়ে আমাদের পাঁচ প্রার্থীকে মনোনয়ন জমা করতে দেয়নি। তবুও ৪০ আসনে ভোট হবে। এই ভোটে আমরা জেতার বিষয়ে ১০০ শতাংশ আশাবাদী। গাজোয়ারি করেও তৃণমূল সুবিধা করতে পারবে না।রানিচক সমবায়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা কিয়াখালি বুথের সভাপতি শুকদেব দাস বলেন, বিজেপি সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে ৪৫টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে প্রার্থী দিতে পারেনি। তাই ৪০টি আসনে ভোট হবে। আমরা নিশ্চিতভাবে জয়ী হব। বিজেপি নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগর থেকে নেতা-কর্মীদের এনে ভোটের প্রচার করছে। ভোটের দিনও ওরা বাইরে থেকে লোকজন আনতে পারে। কিন্তু, তাতেও ওরা সুবিধা করতে পারবে না।