• ধৃত বধূ ও প্রেমিকের কাছ থেকে সোনা উদ্ধার, পুলিশি হেপাজত
    বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দকুমারে গৃহস্থের বাড়ি থেকে সোনা চুরির ঘটনায় গৃহকর্তার পুত্রবধূ ও তাঁর প্রেমিকের ফের পাঁচদিন পুলিশি হেপাজত হল। চার দিনের পুলিশ হেপাজত শেষে শনিবার ধৃত শ্রাবণী হাজরা ও তার প্রেমিক সন্তু সাউকে শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে পেশ করা হয়। দু’জনের হেপাজত থেকে বেশকিছু চোরাই সোনা উদ্ধার হয়েছে। এদিন তদন্তকারী অফিসার সেই তথ্য পেশ করেন। খোয়া যাওয়া বাকি সোনা উদ্ধারের জন্য পুনরায় হেপাজতের আবেদন জানান সরকারি আইনজীবী সফিউল আলি খান। সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত। ২৯জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের পুলিশি হেপাজতে পাঠিয়েছে আদালত। সফিউল সাহেব বলেন, ধৃতদের হেপাজত থেকে বেশকিছু চোরাই সোনা উদ্ধার হয়েছে। তাদের ফের পাঁচ দিন পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেছে আদালত।প্রসঙ্গত, গত ১০জানুয়ারি রাতে ধিতাইবসান গ্রামের বাসিন্দা জয়কান্ত হাজরার বাড়িতে চুরি হয়। জয়কান্তবাবুর দুই ছেলে। বড় ছেলে গৌরাঙ্গ হাজরা ফুলের কাজ করেন। তাঁরই স্ত্রী শ্রাবণী। ঘটনার রাতে ওই দম্পতি একসঙ্গে ছিলেন। ভোর রাতে জয়কান্তবাবুর স্ত্রী অপর্ণাদেবী বাথরুমে যাওয়ার সময় দেখেন, বাড়ির একটি গেট খোলা। তিনি বাড়ির দোতলায় গিয়ে দেখেন, দরজার হ্যাজবোল্ট ভাঙা। ভিতরে আলমারি ও বক্সখাট লন্ডভন্ড। ওই আলমারি ও খাটের ভিতর থেকে অপর্ণাদেবীর সোনার চেন, জোড়া বালা, বাউটি ও গৃহকর্তার একটি আংটি খোয়া গিয়েছে। গৃহকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর প্রায় ৬০গ্রাম ওজনের সোনা হাপিশ।গত ১৯ জানুয়ারি জয়কান্তবাবু নন্দকুমার থানার এফআ‌ইআর করেন। বাড়ির দরজা কীভাবে খোলা রইল, সেই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ বাড়ির গৃহবধূ শ্রাবণী হাজরার মোবাইলের কললিস্ট পরীক্ষা করে। তাতে দেখা যায়, চুরির দিন মোট ১৬বার প্রেমিক সন্তুর সঙ্গে সে কথা বলেছে। এরপর তার দিকে সন্দেহ গাঢ় হয়। পুলিশি জেরায় শ্রাবণী ভেঙে পড়ে। সে স্বীকার করে, চুরিতে তার হাত ছিল। ২১জানুয়ারি পুলিশ শ্রাবণীকে গ্রেপ্তার করে। তারপর সবং থেকে তার প্রেমিক সন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়।জানা গিয়েছে, স্বামী, চার বছরের ছেলে, শ্বশুর, শাশুড়ি নিয়ে শ্রাবণীর ভরা সংসার। কয়েকদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার সঙ্গে সবং থানার কেরুরবাড় গ্রামের সন্তুর পরিচয় হয়। তারপর নিজেদের মধ্যে ফোনে যোগাযোগ ক্রমশ বাড়ছিল। পরস্পরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিকের হাত ধরে শ্বশুরবাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল শ্রাবণী। তারআগে শ্বশুরবাড়ি থেকে শ্বশুর ও শাশুড়ির প্রায় ছ’লক্ষ টাকা মূল্যের সোনা হাতানোর প্ল্যান করে। সেই কাজে প্রেমিক সন্তুকে ব্যবহার করে ওই যুবতী। রাতে বাড়ির দরজা খোলা রেখে প্রেমিককে চুরি করতে সহযোগিতা করে। গত ১০জানুয়ারি শ্রাবণীর শ্বশুরবাড়ি থেকে ৬০গ্রাম ওজনের সোনার গয়না চুরি হয়। আপাতত চোরাই সোনার বেশকিছুটা উদ্ধার হয়েছে। তবে, বালা জোড়া এখনও পাওয়া যাচ্ছে না।পুলিশ জানিয়েছে, চুরি হওয়া সোনা ওই বধূ তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়ি এবং সন্তু নিজের বাড়িতে রেখেছিল। সোনা দু’জনের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। তাদের মধ্যে পালিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনাও ছিল। তারআগে সোনা চুরির ঘটনা ঘটে। সবটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধৃত বধূর দেওর নিত্যানন্দ হাজরা বলেন, চুরির সময় বাড়ির দরজা যেভাবে খোলা অবস্থায় ছিল তাতে আমাদের পরিবারের কোনও সদস্যের হাত ছিল বলে সন্দেহ তৈরি হয়। সেই সন্দেহ থেকেই পুলিশ প্রত্যেককে জিজ্ঞাসা করে। তারপর আমার বউদি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে।
  • Link to this news (বর্তমান)