• মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত বন্দির হৃদরোগে মৃত্যু
    বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বহরমপুর: নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে বাড়ি নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত বন্দির মৃত্যু হল মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা নাগাদ ওই সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওইদিন রাত ১১টা নাগাদ মৃত্যু হয় ওই বন্দির। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে বহরমপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার সূত্রে খবর।মৃতের পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হলেও তাঁদের শুক্রবার দুপুরের পর জানানো হয়। শুক্রবার পরিবারের লোক হাজির না হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট ময়নাতদন্ত করেননি। শনিবার ময়নাতদন্ত হয়। মৃতের নাম দীনবন্ধু হালদার (৪০)। বাড়ি ফরাক্কার রেল কলোনি এলাকায়। ফরাক্কা থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের পরিবার ওই গ্রামে থাকেন না। তাঁদের সন্ধান করেই খবর দেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের দুর্গাপুজোর দশমীর দিন দীনবন্ধু হালদারের বাড়ি থেকে প্রতিবেশী নাবালিকার দেহ বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করেছিলেন প্রতিবেশীরা। উত্তেজিত জনতা দীনবন্ধুকে পাকড়াও করে বেধড়ক মারধর করেছিল। খবর পেয়ে ফরাক্কা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।ওইদিনই দীনবন্ধুকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরাক্কা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তদন্ত করে পুলিশ দ্রুত ঘটনার চার্জশিট জমা দেয়।  দু’মাসের মধ্যে নিম্ন আদালতে শুনানি পর্বের পর বিচারক ফাঁসির সাজা শোনান। তখন থেকে বহরমপুরে কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন দীনবন্ধু হালদার। গত বৃহস্পতিবার সেখানেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মৃতের স্ত্রী বিশাখা হালদার বলেন, গত বুধবার আমার সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। তখনও শারীরিক কোনও অসুবিধার কথা বলেনি। কীভাবে হল জানি না। মৃতের পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তাঁরা গ্রাম ছাড়া হয়ে রয়েছেন।পুলিশকে একাধিকবার জানিয়েও গ্রামে ফিরতে পারেননি তাঁরা। বিশাখাদেবী দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি জিয়াগঞ্জে থাকেন। দীনবন্ধু হালদারের মা রেবতী হালদার বলেন, আমি আত্মীয়ের বাড়ি, বাড়ি থাকি। পুলিশকে কতবার বলেছি, ছেলে অপরাধী তার সাজা হয়েছে। আমরা কোনও দোষ করিনি। তাহলে নিজের বাড়িতে কেন ফিরতে পারব না?
  • Link to this news (বর্তমান)