সংবাদদাতা, বোলপুর: বোলপুরে সদ্য শেষ হয়েছে খাদি মেলা। মেলায় চলতি বছরে বিক্রির অঙ্ক ছুঁয়েছে রেকর্ড উচ্চতায়। মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। খাদি ও গ্রামীণ শিল্পের নানা সামগ্রী ঘিরে মানুষের আগ্রহ যে দিন দিন বাড়ছে, এই পরিসংখ্যানই তার স্পষ্ট প্রমাণ বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।বস্তুত, গ্রামীণ শিল্পকে ভিত্তি করে মহিলাদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে গত ১১ জানুয়ারি বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে শুরু হয় এই মেলা। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলার শিল্পীরা তাঁদের শিল্প সামগ্রী নিয়ে মেলায় স্টল দিয়েছিলেন। পুরো মাঠ জুড়ে প্রায় ১১০টি স্টলে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ ভিড় জমাতেন। জেলা খাদি ও গ্রামীণ শিল্প দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মেলায় খাদি বস্ত্র, তাঁতের শাড়ি, হাতের কাজের পোশাক, চামড়াজাত সামগ্রী, মধু, সাবান, প্রসাধনী সামগ্রী, কাঠ ও বাঁশের তৈরি হস্তশিল্প, ধাতব সামগ্রী, মৃৎশিল্প-সহ বিভিন্ন গ্রামীণ শিল্পপণ্য বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। মেলায় অংশগ্রহণকারী খাদি স্টলগুলিথেকেই মোট বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। এবছর মোট ৭১টি খাদি স্টল মেলায় অংশ নেয়। উৎসবের মরসুমকে সামনে রেখে খাদি বস্ত্রের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ ছিল চোখে পড়ার মতো।অন্যদিকে, গ্রামীণ শিল্পের স্টলগুলিও পিছিয়ে ছিল না। ৩৫টি গ্রামীণ শিল্পের স্টল থেকে মোট বিক্রি হয়েছে ৬১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকার সামগ্রী। মৃৎশিল্প, কাঠের কাজ, বাঁশ ও বেতের তৈরি সামগ্রী, হাতে তৈরি শৌখিন দ্রব্য ক্রেতাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। স্থানীয় শিল্পীদের হাতে তৈরি পণ্যে ছিল নিজস্বতার ছাপ, যা মেলায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। এছাড়াও মেলায় থাকা ৪ টি হ্যান্ডলুম স্টল থেকে বিক্রি হয়েছে ১৩ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকার সামগ্রী। মেলায় আসা ব্যবসায়ীরা জানান, হ্যান্ডলুম শাড়ি ও কাপড়ের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ প্রমাণ করে যে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখনও মানুষের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।এই মেলা ঘিরে শুধুমাত্র বিক্রি নয়, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, জেলায় ১৬৬টি তাঁতঘর নির্মাণের ফলে ৬৪৪ জন শিল্পী উপকৃত হয়েছেন। পাশাপাশি ২৪টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রায় ৪৮০ জন তাঁতি ও কারিগর প্রশিক্ষণ নেন। তাঁতের তৈরি জাতীয় পতাকা পূর্ব ভারতের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সরকার থেকে চরকা ও তাঁত বিতরণের মাধ্যমে প্রায় হাজার খানেক হস্তশিল্পী উপকৃত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন করে গতি আসছে বলে মনে করছেন এই দপ্তরের আধিকারিকরা।খাদি ও গ্রামীণ শিল্প পরিষদের জেলা আধিকারিক গোপালকৃষ্ণ বসু জানান, খাদি শুধুমাত্র একটি কাপড় নয়, এটি স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব। রাসায়নিক রং ও ক্ষতিকর উপাদান এড়িয়ে তৈরি হওয়ায় এই পণ্যের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খাদির আধুনিক নকশা ও ব্যবহারযোগ্যতা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই এবার বিক্রিবাটার পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে।