• ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কলুষিত করা উচিত নয়: অমর্ত্য সেন
    বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বিধানসভা নির্বাচনের কয়েকমাস আগে রাজ্যে বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এই কাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বস্টন থেকে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, এই প্রক্রিয়া ভোটারদের প্রতি অবিচার এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।নোবেলজয়ীর মতে, একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরির জন্য যে সময়ের প্রয়োজন, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তার অভাব স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘যাঁদের ভোটাধিকার আছে, তাঁদের নথিপত্র পেশ করার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে না।’ কমিশনের আধিকারিকদের মধ্যেও সময়ের অভাব লক্ষ্য করেছেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, শান্তিনিকেতনের ভোটার হিসেবে তাঁর নাম, ঠিকানা সরকারি নথিতে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে অদ্ভুত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি তাঁর প্রয়াত মায়ের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। গ্রামীণ ভারতে জন্ম নেওয়া বহু মানুষের মতো তাঁরও জন্মের শংসাপত্র নেই বলে জানিয়ে অমর্ত্যবাবু বলেন, ‘বন্ধুদের সহায়তায় আমি কমিশনের কড়া বিধিনিষেধ পার হতে পেরেছি। কিন্তু বিটলসের গানের মতো যাদের ‘লিটল হেল্প ফ্রম ফ্রেন্ডস’ বা বন্ধুদের সাহায্য পাওয়ার সুযোগ নেই, সেই সব সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক শ্রেণির নাগরিকদের কী হবে, তা নিয়ে আমি চিন্তিত।’এই প্রক্রিয়ায় কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল সুবিধা পাবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তিনি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ নন। তবে অনেকেই মনে করছেন এতে বিজেপির সুবিধা হতে পারে। কিন্তু তাঁর মতে, কে লাভবান হল তার চেয়েও বড় কথা, ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কলুষিত করা উচিত নয়। পাশাপাশি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং হিন্দুদের একাংশও যে এই প্রক্রিয়ায় হয়রানির শিকার হতে পারেন, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁর আর্জি, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় যেন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।৯২ বছর বয়সি অর্থনীতিবিদ জানান, হার্ভার্ড ও কেমব্রিজের ব্যস্ততা সামলে তিনি বিধানসভা ভোটে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক। অতীতে ৮২ বছর বয়সে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার জন্য বিদেশ থেকে এসে ভোট দেওয়ার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘শরীর দিলে এবং তারিখ মিলে গেলে আমি এবারও রবীন্দ্রনাথের সেই উদার সংস্কৃতির কথা মনে করে ভোট দিতে চাই।’
  • Link to this news (বর্তমান)