• রাঁধুনি ভাড়া করে দলিতদের বাড়িতে ভোজের আয়োজন অমিত শাহ ও নীতিনদের
    বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ভোট আসছে। বাংলায় অস্থায়ী আস্তানা গড়ছেন গো-বলয়ের বিজেপি নেতারা। মোদি-অমিত, নীতিন নবীন, রাজনাথরা ঘনঘন আসবেন। আসতে শুরুও করে দিয়েছেন। আর তাঁরা এলেই পাতপেড়ে খাওয়া-দাওয়া করেন বাছাই করা দলীয় কর্মীদের বাড়িতে। তাঁদের কেউ এসসি, এসটি। কেউ আবার মতুয়া অথবা নমশূদ্র। কেউ কেউ আবার আদিবাসী সম্প্রদায়ের। দিল্লি থেকে শুরু করে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র সহ হিন্দি ভাষাভাষি নেতারা বাড়িতে খাবেন, সংবাদমাধ্যমের লোকজন ভিড় করবেন, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ঝলকে উঠবে—রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে উঠবেন দলিত সম্প্রদায়ের দলীয় কর্মীরা। একেবারে নিখুঁত চিত্রনাট্য। কিন্তু, ক্যামেরার পিছনে ‘অন্ধকার’-এর খবর ক’জন রাখেন?জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে যাঁরা বাংলায় গেরুয়া রাজনীতি করেন, তাঁদের একটা বড় অংশ সেই খবর ফাঁস করে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, দলের দলিত কর্মীদের বাড়িতে পরিযায়ী নেতারা খাবেন ঠিকই, কিন্তু রান্না করবেন বিশেষ রাঁধুনি!  এটাও পর্দার পিছনের অন্য এক চিত্রনাট্য। ইতিমধ্যে জেলা সভাপতিদের কাছে একটি তালিকা এসেছে। সেখানে কোন নেতা কবে আসবেন, কোথায় খাবেন, কোন দলিত কর্মীর বাড়িতে খাবেন, সব স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেই মতো প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। তবে, ওই দলিত বাড়ির গৃহিণীর রান্না করা খাবার নৈব নৈব চ...! নেতারা আসার অনেক আগে ওই বিশেষ রাঁধুনি চলে আসবেন সংশ্লিষ্ট দলিত কর্মীর বাড়িতে। তৈরি করবেন নিরামিষের হরেক রেসিপি। রান্না করে রাঁধুনি বেরিয়ে যাবেন। তারপর ঢুকবেন বিজেপি নেতারা! সারবেন খাওয়া-দাওয়া। সেই ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে সংবাদ মাধ্যম থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যাতে বাংলার মানুষের কাছে তুলে ধরা যায়, নেতাদের দলিত-প্রীতি কতখানি! অথচ, দলিত বধূর হাতের রান্না তাঁরা মুখে তুলবেন না। হিন্দি ভাষাভাষি নেতাদের পাতে মাছ না দেওয়ার ফরমান মেনে নিলেও রান্না করার ক্ষেত্রে এমন একটা ‘অস্পৃশ্য’ বিভাজন মেনে নিতে পারছেন না বঙ্গ বিজেপির একটা বড় অংশ। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলা সভাপতিদের পাঠানো নির্দেশিকায় মোটামুটিভাবে মেনুও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। শাক, ডাল, পনির এবং সবজি। ভাত হবে মোটা চালের।  বিজেপি নেতা রাজু পাত্র অবশ্য আমিষ-নিরামিষ কিংবা রাঁধুনি বিতর্কে না গিয়ে বলেছেন, কর্মীরাই আমাদের শক্তি। গ্রামে প্রচারে গেলে নেতারা তাঁদেরই বাড়িতে খাবেন। এটাই বিজেপি’র সংস্কৃতি।’এমন সংস্কৃতিকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল নেতা দেবু টুডু। তিনি এদিন বলেন, ‘বিজেপির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন এসসি, এসটিদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। ভোটের সময় লোকদেখানো আদিবাসীদের বাড়িতে খেতে যাবেন। তাও আদিবাসী বধূর হাতে রান্না খাবেন না। এমন স্পর্শকাতর ইস্যুতেও বিজেপির জুমলা। ওদের চিত্রনাট্য বাংলার মানুষ বুঝে গিয়েছেন। জাতপাতের রাজনীতিকে তাঁরা প্রশ্রয় দেন না।’
  • Link to this news (বর্তমান)