বাবা মিসিং ডায়েরি করায় প্রেমিককে নিয়ে থানায় নন্দকুমার কলেজের ছাত্রী
বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সরস্বতী পুজো দেখতে বের হয়ে প্রেমিকের হাত ধরে চম্পট দিয়েছিলেন কলেজ ছাত্রী। মহারাজা নন্দকুমার মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি অনার্সের থার্ড সেমেস্টারের পড়ুয়া ওই ছাত্রীর বাড়ি নন্দকুমার থানার নারায়ণপুর গ্রামে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় মেয়ে বাড়ি না ফেরায় বাবা মিসিং ডায়েরি করতে থানায় হাজির হন। বাবা থানায় গিয়েছেন জানতে পেরে ওই ছাত্রী প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে সটান থানায় পৌঁছে যান। সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে বাবার সামনে দাঁড়িয়ে ওই ছাত্রী জানান, তিনি ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সংসার করতে চান। সেজন্য বাড়ি ফিরবেন না। এনিয়ে থানা পুলিশ করার দরকার নেই। এই মুহূর্তে তাঁর বয়স ২০ বছর। তাই স্বেচ্ছায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তে পরিবার যেন নাক না গলায়।জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রীর প্রেমিকের বাড়িও নারায়ণপুর গ্রামেই। তাঁদের পাশাপাশি বাড়ি। প্রেমিক যুবকটি এই মুহূর্তে কোনও কাজকর্ম করেন না। তাই মেয়ের বাড়ির লোকজনের অমত ছিল। কিন্তু সেই আপত্তি অগ্রাহ্য করেই শুক্রবার ওই কলেজ ছাত্রী সরস্বতী পুজোর দিন বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রেমিকের হাত ধরেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল ও তারপর সন্ধ্যা নামলে বাড়ির লোকজনের চিন্তা বাড়তে থাকে। ফোন বন্ধ থাকায় ছাত্রীর বাবা স্থানীয় গ্রাম কমিটির লোকজনকে নিয়ে সোজা থানায় হাজির হন। তারপর মিসিং ডায়েরি করেন। মহারাজা নন্দকুমার মহাবিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল অমলকুমার মিশ্র বলেন, ওই ছাত্রী সরস্বতী পুজোয় কলেজে আসেননি। আমরা খোঁজখবর নিয়ে এটা জেনেছি।শুক্রবার সরস্বতী পুজোর দিন শুধুমাত্র নন্দকুমার থানা এলাকায় তিনজন বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। তার মধ্যে একজন নাবালিকা আছে। ঠেকুয়ার এক গৃহবধূ রয়েছেন। এছাড়া, ব্যবত্তারহাট পূর্ব গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন নারায়ণপুর গ্রামের ওই কলেজ ছাত্রী।তবে, কলেজ ছাত্রী থানায় দাঁড়িয়ে প্রেমিকের হাত ধরে যেভাবে বাবাকে ডায়েরি প্রত্যাহার করার কথা বলেন, তাতে পুলিশ অফিসার ও কর্মীরাও আশ্চর্য হন। ছাত্রীর বাবার সঙ্গে ছিলেন নারায়ণপুর বুথের বিজেপির সভাপতি তথা গ্রাম কমিটির মোড়ল কমলেশ সামন্ত সহ বেশ কয়েকজন। পরিস্থিতি দেখে কমলেশবাবুরা পিছু হটেন। ছাত্রীর বাবা রাত পর্যন্ত থানায় ছিলেন। শুক্রবার রাতে থানা থেকে ওই ছাত্রী ও তাঁর প্রেমিক বের হয়ে যাওয়ার পর অজানা কোনও ঠিকানায় উঠেছেন। নারায়ণপুর গ্রামে ওই যুবকের বাড়িতে তাঁরা ওঠেননি। নারায়ণপুর গ্রাম কমিটির মোড়ল কমলেশবাবু বলেন, ওই ছাত্রী সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তারপর ছাত্রীর বাবার সঙ্গে আমরা কয়েকজন থানায় যাই। মিসিং ডায়েরি করা হয়। কিছুক্ষণ পর ওই ছাত্রী থানায় হাজির হন। সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রেমিক আমাদের নারায়ণপুর গ্রামের ওই যুবক। সেখানে পুলিশের সামনেই ওই যুবতী জানান, তিনি স্বেচ্ছায় ভালোবাসার মানুষের হাত ধরেছেন। তাঁর সঙ্গে থাকতে চান। এরপর ছাত্রীর বাবা সম্পর্ক নিয়ে নিমরাজি সত্ত্বেও পুলিশের সামনে তা মেনে নিতে বাধ্য হন। নন্দকুমার থানার এক পুলিশ অফিসার বলেন, ১৮ উত্তীর্ণ ওই ছাত্রী স্বেচ্ছায় একজনকে বিয়ে করতে চান। থানায় দাঁড়িয়ে বাবার সামনে সেটা বলেছেন। তিনি নিখোঁজ নন বলে সোজা থানায় এসে বলে দিয়ে যান।