আমগাছে দুই বন্ধুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, শোরগোল স্বরূপনগরে, খুনের অভিযোগ পরিবারের
বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শনিবার কাকভোরে একটি আমগাছের দু’টি ডালে দুই বন্ধুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল স্বরূপনগরে। মৃতদের নাম রাজা ভদ্র (২২) ও রাকিবুল মণ্ডল (১৯)। এটি খুন নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে এলাকায়। মৃত দুই তরুণের পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটা নিছক আত্মহত্যা নয়, খুনের ঘটনা। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে স্বরূপনগর থানার পুলিশ।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজা ও রাকিবুল ভালো বন্ধু ছিলেন। একইসঙ্গে তাঁরা ঘোরাফেরা করতেন। শুক্রবার সকালে সরস্বতী পুজো উপলক্ষে তাঁরা সাইকেলে করে বের হন। সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন দু’জনে। মাঝে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তাঁরা ফোনে কথাও বলেন। কিন্তু, বিকেল গড়িয়ে গেলেও দু’জন বাড়ি ফেরেননি। ফলে চিন্তায় পড়ে দুই পরিবার। সন্ধ্যায় রাজাকে ফোন করলে ফোন বন্ধ পায় পরিবার। অন্যদিকে রাকিবুলের ফোনে রিং হয়ে গেলেও কেউ তোলেননি।এই পরিস্থিতিতে দুই পরিবারই চারদিকে শুরু করে তল্লাশি। কিন্তু কাজ হয়নি। অবশেষে শনিবার কাকভোরে গোবিন্দপুরের দত্তপাড়াতে একটি আমগাছে দু’জনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।তড়িঘড়ি তাঁদের পরিবারের লোকজনকে ও স্বরূপনগর থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ দু’টি উদ্ধার করে সাঁড়াপুল গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে, মৃতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলেই স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। মৃত রাকিবুলের বাবা রবিউল মণ্ডল বলেন, ছেলেকে খুন করা হয়েছে। ছেলের সঙ্গে এক কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমরা বিয়েতে রাজি ছিলাম। কিন্তু মেয়েটির পরিবার এখনই বিয়ে দিতে চাইছিল। আমরা কিছুটা সময় চেয়েছিলাম। আমার অনুমান, ওই মেয়ের পরিবারের লোকজন ছেলেকে ডেকে খুন করে টাঙিয়ে দিয়েছে।অন্যদিকে, রাজার দাদা দেবাশিস ভদ্রের দাবি, আমার ভাইও প্রেম করত। আমরাও বিষয়টি জানতাম। আমার অনুমান, ভাইকে খুন করা হয়েছে পরিকল্পনা করেই। কারণ, বিকেল পর্যন্ত ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এরপরেই কী এমন হল যে ওঁকে আত্মহত্যা করতে হল? বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমরা চাই পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত করুক।এনিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার এক কর্তা বলেন, দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।