মুড়িগঙ্গায় বারবার ডুবছে পণ্যবাহী জাহাজ, ক্রমেই বাড়ছে নদীর দূষণ
বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: বারবার মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবছে বাংলাদেশের ছাই বোঝাই পণ্যবাহী জাহাজ। কেন্দ্র সরকার এ দিকে কোনও নজরই দেয় না বলে উঠল অভিযোগ। এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে মৎস্যজীবী সংগঠনগুলি। অতীতে তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবেছিল। বুধবার ছাই বোঝাই আরও একটি ডুবেছে। এর ফলে নদীর দূষণ বাড়ছে। ক্ষতি হচ্ছে জলজ প্রাণীর। এই অভিযোগ স্থানীয়দের। আশঙ্কায় নদী বিশেষজ্ঞরা।কচুবেড়িয়া ও লট নম্বর আটের মাঝখানে এম ভি তামজিদ নাসির নামে একটি জাহাজ ডুবে যায় বুধবার। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাজটি বজবজ থেকে ছাই বোঝাই করে বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছিল। ভাটার সময় নদীর চড়ায় আটকে জলযানটির মধ্যিখানের অংশ ফেটে যায়। এরপর ভিতরে জল ঢুকে সেটি যায় ডুবে। জাহাজটিতে ১১ জন নাবিক ছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করে অন্য একটি পণ্যবাহী জাহাজে তুলে দেওয়া হয়। এটি আন্তর্জাতিক জলপথ। এই এলাকায় বারবার জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে বাংলাদেশের যে জাহাজগুলি চলাচল করছে সেগুলির স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা উচিত। জাহাজগুলি চলাচলের যোগ্য কি না তা পরীক্ষা করার পরই অনুমতি দেওয়া উচিত। বিষয়টি বিভিন্ন জায়গায় বহুবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এর ফলে নদীর জলে ছাই মিশে ঘটছে দূষণ। ভবিষ্যতে নদীতে জলজ প্রাণী বাঁচতে পারবে না। মৎস্যজীবীরা ভয়ানক ক্ষতির মুখে পড়বে।’ এই বিষয়ে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক জলপথ। রাজ্য সরকারের অধীনে নয়। মৎস্যজীবীরা যে আশঙ্কা করছেন তা বাস্তব।’ নদী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তুহিন ভদ্র বলেন, ‘বারবার এই ঘটনা ঘটলে জলের বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন হবে। জলজ প্রাণীর ক্ষতি হবে। বিষয়টির উপর প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।’