ভিন্টেজ ক্যামেরায় ছবি, গ্রামোফোনের গানে মজে পুস্তকপ্রেমীরা, শনিবার বইমেলায় হাজির সাড়ে ৩ লক্ষ মানুষ
বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: যেমন ভিড় হয়েছে। তেমনই কেনাকাটার বহর দেখা গিয়েছে। শনিবার সবমিলিয়ে রীতিমতো জমে গেল কলকাতা বইমেলা। শনিবার দুপুর থেকে স্টলগুলিতে প্রায় ‘ঠাঁই নাই’ পরিস্থিতি। শুধু উৎসাহী হয়ে মেলায় ঘোরা নয়, হাতে বই ভর্তি ব্যাগ নিয়েই বেরল অধিকাংশ পাঠক।এ কারণে প্রকাশক, স্টল মালিক এবং গিল্ডের কর্তাদের মুখের হাসি চওড়া। চোখে পড়ার মতো আরও বিষয় এদিন চোখে পড়ল সবার। সেটি হল, ‘পাইরেটেড’ বই আটকাতে পুলিশের সক্রিয়তা। করুণাময়ী মোড় থেকে পাইরেটেডে বই বিক্রেতাদের বারবার এসে তুলে দিয়েছে পুলিশ। অন্যান্য বছর মেলার বিক্রির একটি অংশে ভাগ বসায় এই বই। এবার তা আটকাতে তৎপরতা দেখা গিয়েছে। পাইরেটেড বইয়ের বিক্রেতারা পুলিশের পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ। তাঁরা ক্ষোভও জানালেন।পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দাপটে নিস্তেজ কলকাতার শীত। পড়ন্ত দুপুরের রোদও বেশ উষ্ণ হয়ে পিঠে জ্বালা ধরাচ্ছে। ফলে আইসক্রিম ভরসা। কাঠি আর কোন হাতে মেলায় ঘুরলেন বহু বইপ্রেমী। রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের স্টলে বিক্রি হচ্ছে গরম ফিস ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। সে দিকেও ভিড়। দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না স্টলের কর্মীরা। তবে বই বাদ দিয়ে খানাপিনা হয়েছে এমন ছবি এদিন চোখে পড়েনি। নতুন বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়েই ফিস ফ্রাইয়ে কামড় দিয়েছে অধিকাংশ। উৎসাহব্যাঞ্জক আরও একটি চিত্র হল, নির্দিষ্ট কোনও ধরনের বই বা প্রকাশনার স্টলে ভিড় জমেছে এমন হয়নি। সব ধরনের গুণমানসম্পন্ন প্রকাশনা সংস্থা বা বই বিক্রির স্টল ভরিয়ে রেখেছিলেন সব রকমের ক্রেতা। কমবেশি সব ধরনের বই-ই বিক্রি হয়েছে। ইংরেজি প্রকাশনা সংস্থাগুলির বইয়ের দাম সাধারণভাবে বেশিই থাকে। তবে তাতেও নামী স্টলগুলিতে ক্রেতারা হাত ভরে কেনাকাটা করলেন। এ ছবি উৎসাহব্যাঞ্জক, বক্তব্য বিক্রেতাদের। এখন মাসের শেষ। হাতে বেতন আসতে দেরি। মাস প্রথমে কেনার প্রবণতা আরও উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠবে বলে আশা অধিকাংশ বিক্রেতার। উল্লেখযোগ্য বিষয়, বইয়ের স্টলে এবার কোনও মার্চেন্ডাইজ বা অন্য কোনও পণ্য রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাই বিক্রির হিসেব প্রধানত বইয়ের উপরই কষা হচ্ছে।প্রতিবছরই জাগো বাংলার স্টল আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে। বাংলা ও বাঙালি থিমে তৈরি স্টল সেজে উঠেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একাধিক বইয়ে। সাধারণের মধ্যে সেগুলি নিয়ে খুবই উৎসাহ। অন্যদিকে থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনার স্টলের পিছনে থাকা বিজেপির জনবার্তার স্টলে এদিন লোকজন খুব একটা দেখা যায়নি বলে বক্তব্য অনেকের। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক তরুণ মুখোপাধ্যায়ের ২৫টি বই এবার মেলায় প্রকাশিত হয়েছে। রামায়ণ থেকে রামমোহন, অ্যালবেয়ার কামু থেকে তৃপ্তি মিত্র, ভিন্ন স্বাদের বইগুলি বিভিন্ন স্টলে পৌঁছে গিয়েছে। শেষ মুহূর্তে কিছু বই আটকে না গেলে সংখ্যাটি তিরিশে গিয়ে ঠেকত।সাধারণত করুণাময়ী বাস স্ট্যান্ড এবং মেট্রো স্টেশন হওয়ায় মেলার মূল ভিড়টা প্রবেশ করে ন’নম্বর গেট দিয়ে। অর্থাৎ মাঠের শেষ দিক থেকে জমতে থাকে বইমেলা। সেই তুলনায় ফাঁকা থাকে ১ নম্বর গেট সংলগ্ন অংশ। তবে এবার সেই গেটে না গেলে দর্শকরা একটি জিনিস মিস করবেন। নামমাত্র মূল্যে ভিন্টেজ বক্স ক্যামেরা, টুইন লেন্স রিফ্লেক্স ক্যামেরায় ছবি তুলে দিচ্ছেন কিছু নামকরা ফোটোগ্রাফার। রয়েছে উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের কাটআউটও। অ্যান্টিক গ্রামোফোনের গান শুনতে শুনতে দেখা যাচ্ছে বায়োস্কোপ। সুপার এইট ফিল্ম শোয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। ঘুরতে ঘুরতে অনেকে হঠাৎ করেই সেসব আবিষ্কার করে, হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছেন। গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে জানিয়েছেন, সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ আজ এসেছিলেন বইমেলায়। নিজস্ব চিত্র