বাংলাকে শূন্য, ৫ হাজার কোটি টাকা গুজরাত-উত্তরপ্রদেশকে, পেট্রপণ্যের সেসেও কেন্দ্রীয় বঞ্চনা
বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: জিএসটি ছাড়াও নানাবিধ সেসের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পশ্চিমবঙ্গ থেকে তুলে নিয়ে যায় কেন্দ্রীয় সরকার। সেই তালিকায় অন্যতম পেট্রপণ্য বাবদ সেস। বাংলা থেকে প্রতি বছর এই বাবদ প্রায় ৮-৯ হাজার কোটি টাকা যায় কেন্দ্রের কোষাগারে। সেই টাকার ৯০ শতাংশই আবার রাজ্যকে সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন খাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা কেন্দ্রের। কিন্তু কেন্দ্রের তথ্যই বলছে, বিগত দু’বছর ধরে বিরোধী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জন্য এই খাতে নতুন প্রকল্প বাবদ বরাদ্দ শূন্য। ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বাংলাকে। অথচ, একই সময়কালে দেশের তিনটি প্রধান ডবল ইঞ্জিন রাজ্যের জন্য দরাজহস্ত নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের সরকার। ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান এবং গুজরাতের জন্য সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন বা সেন্ট্রাল রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড (সিআইআরএফ) খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৫ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।শেষবার বাংলার জন্য সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন তহবিল বরাদ্দ হয়েছিল ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে। ৯৯৭ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে বর্ধমানের শিল্পসেতুর জন্য ৩৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা শোনা গেলেও, তার কোনও উল্লেখ ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের কেন্দ্রের তরফে সিআইআরএফ সংক্রান্ত রিপোর্টে দেখানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে গঙ্গাসাগর সেতু তৈরি থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ নিজের হাতে তুলে নিয়েছে নবান্ন। পুরোপুরি রাজ্যের খরচেই।কেন্দ্রের এহেন বঞ্চনা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন রাজ্য সরকারের আমলারা। নবান্নের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত এবং রাজস্থানকে যখন ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে, ঠিক সেই সময় রাজ্যের তরফেও একাধিক প্রকল্পে সিআইআরএফ বাবদ বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু, প্রতিবারই কেন্দ্রের তরফে একটাই উত্তর দেওয়া হয়েছে—‘কোষাগারের অবস্থা খুব খারাপ।’ ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, তবে কী কেন্দ্রীয় পেট্রপণ্য সেসের নির্দিষ্ট অংশের টাকা সিআইআরএফ-এ জমা পড়ছে না? আর যদি জমা পড়ে থাকে সেটা যাচ্ছে কোথায়? কেন্দ্রের রিপোর্ট ঘেঁটে অবশ্য যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছেন রাজ্যের কর্তারা। কারণ, সেই রিপোর্টই বলছে, আগের তুলনায় এই খাতে বরাদ্দ বিগত দু’বছরে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি হয়েছে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত এবং রাজস্থানে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই তিন রাজ্যের জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ২ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতিতে বাংলার ন্যায্য প্রাপ্য ছিনিয়ে আনতে নবান্নের তরফে নতুন করে লড়াইয়ে নামা হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর।