বাংলায় কাদের নাম বাদ, ঠিক করবে ভিন রাজ্যের অফিসার! ফের তুঘলকি সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের
বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ‘আসল’ ভোটার কে? কাদেরই বা নাম যাবে বাদের খাতায়? কারা হবেন নতুন ভোটার? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ভিনরাজ্যের কেন্দ্রীয় আধিকারিকরাই! ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের বা ইআরও’দের ক্ষমতা খর্ব করে আবারও ‘তুঘলকি’ সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের। সূত্রের খবর, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ দেখভালের জন্য শীঘ্রই বাংলায় আসছেন ভিনরাজ্যের ২৯৪ জন আধিকারিক। পড়শি তিন রাজ্য ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে তাঁদের আনা হচ্ছে। ওই আধিকারিদের কাজ হবে মূলত ইআরওদের যাচাই করা শুনানির নথি খতিয়ে দেখা। এমনকি সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে, তাঁরা কমিশনকে নাম বাতিলের সুপারিশ পর্যন্ত করতে পারবেন।সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৬ নম্বর এবং ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী তালিকায় ভোটার সংযুক্তিকরণ ও বিয়োজনের পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে ইআরও’দের। কাদের নাম থাকবে, কারা বাদ যাবেন— জমা পড়া নথির ভিত্তিতে সেব্যাপারে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরাই। ইআরও’দের সেই আইনি ক্ষমতা এবার খর্ব করতে চলেছে কমিশন। জানা যাচ্ছে, ভিনরাজ্যের যে আধিকারিকদের আনা হচ্ছে, তাঁরা সিনিয়র মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে নিযুক্ত হবেন। প্রতিটি বিধানসভার দায়িত্বে থাকবেন একজন করে আধিকারিক। শুনানির পর ইআরও’রা যে নথি ‘ভেরিফাই’ করে আপলোড করছেন, তা পুনরায় যাচাই করবেন তাঁরা।এমনিতেই ইআরও’দের পাশাপাশি শুনানির নথি যাচাই করছেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। তাঁদের নিত্যনতুন প্রশ্নবাণে ইআরও’দের জর্জরিত হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ। তাতে শুনানি প্রক্রিয়া রীতিমতো ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় আবার এই মাইক্রো অবজার্ভারদের গোটা প্রক্রিয়াটি হাতেকলমে বুঝিয়ে দিতে হচ্ছে ইআরও’দেরই। ওই ডব্লুবিসিএস অফিসাররা গত ১৬-২০ বছর ইআরও’র দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাঁরাই প্রশ্ন তুলছেন, ভোটার তালিকা বা নথি যাচাইয়ের বিষয়টি মাইক্রো অবজার্ভারদের একাংশের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁদের দিনকয়েকের প্রশিক্ষণ দিয়ে তড়িঘড়ি নিয়োগের যৌক্তিকতা কী? আর এবার তো ইআরও’দের ক্ষমতা খর্ব করে নিয়োগ করা হচ্ছে ভিনরাজ্যের আধিকারিক! এতে সমস্যা আরও বাড়বে।বিশেষজ্ঞ মহলের ব্যাখ্যা, আসলে পশ্চিমবঙ্গে ইআরও হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নিজেদের কর্মী আখ্যা দিলেও তাঁদের উপর ভরসা নেই কমিশনের। অথচ তাঁদের ছাড়া এসআইআরের কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। সেটা বিলক্ষণ জানে কমিশনও। তবুও ইআরওদের উপর স্রেফ নজরদারির জন্য প্রথমে স্পেশাল রোল অবজার্ভার, তারপর রোল অবজার্ভার ও মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। আর এবার আনা হচ্ছে ভিন রাজ্যের আধিকারিক! যদিও কমিশনের এক কর্তার কথায়, স্বচ্ছতার সঙ্গে ভোটার তালিকা তৈরির জন্য কমিশন একাধিক আধিকারিক নিয়োগ করতেই পারে। এক্ষেত্রে আইনি বাধা নেই। একথা আগেই স্পষ্ট করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।