• এপিকে ফাইল পাঠিয়ে মোবাইল হ্যাক, চক্রের হদিশ মহেশতলায়, ৩৫ লক্ষের প্রতারণায় ধৃত ‘বিহার গ্যাং’-এর ৫
    বর্তমান | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হোয়াটসঅ্যাপে শুভেচ্ছাবার্তার নামে এপিকে ফাইল পাঠিয়ে টোপ। ‘ছদ্মবেশি’ সেই এপিকে ফাইল ডাউনলোড করলেই মোবাইলের কন্ট্রোল হাতিয়ে নিচ্ছে জালিয়াতরা। কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয় সাইবার অপরাধীদের এমনই একটি বড়সড় চক্রের হদিশ পেল কলকাতা পুলিশ। শহরতলিতে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এই কারবার  চালাচ্ছিল ‘বিহার গ্যাং’।৩৫ লক্ষ টাকার একটি সাইবার প্রতারণার তদন্তে নেমে এই গ্যাংয়ের জারিজুরি খতম করল লালবাজারের সাইবার থানা। মহেশতলা থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। ধৃতদের নাম অভিমন্যু কুমার ওরফে রাজা কুমার, সিজন ফিলিপস, মহম্মদ সমর, নীরজ কুমার  ও মহম্মদ ইমান। প্রতেকের বয়স ২৮ বছরের মধ্যে। অভিযুক্তরা সবাই বিহারের ঔরঙ্গাবাদের বাসিন্দা। শনিবার ভোররাতে তাদের হাতেনাতে পাকড়াও করেন তদন্তকারীরা। উদ্ধার হয়েছে ১০টি ল্যাপটপ,  ২৪টি মোবাইল ফোন, দু’টি ইন্টারনেট রাউটার। এছাড়া, মহেশতলা থানা এলাকার ওই ভাড়ার ফ্ল্যাট থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।১৯ ডিসেম্বর লালবাজারের সাইবার থানার দ্বারস্থ হন এক ব্যক্তি। পুলিশকে তিনি জানান, ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত থাকা তাঁর মোবাইলটি আচমকা হ্যাক হয়ে যায়। সেখানে দু’টি ওটিপি আসে। তার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে গায়েব হয়ে যায় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট ও গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড, দু’টি জায়গা থেকে টাকা হাতানো হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, অভিযোগকারীর মোবাইলে তাঁরই এক আত্মীয়ের মোবাইল ফোন থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ আসে এপিকে ফাইলে। সেটি ডাউনলোড করার পরই ফোনের যাবতীয় দখল চলে যায় বিহার গ্যাংয়ের হাতে। কিন্তু, প্রাথমিকভাবে প্রতারকদের লোকেশন ট্র্যাক করা যাচ্ছিল না। অবশেষে শনিবার রাতে ‘লোকেশন’ পান তদন্তকারীরা। এরপরই মহেশতলায় অভিযান চালানো হয়।লালবাজার জানিয়েছে, অভিযুক্তরাই হ্যাকিং এপিকে ফাইল বানাত। তারপরে বিভিন্ন মোবাইল নম্বরে সেগুলি পাঠিয়ে দেওয়া হতো। টার্গেট ‘টোপ’ গিললেই কমিশন পেত এপিকে ফাইল প্রস্তুতকারক। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, এর আগেও বিহারে সাইবার প্রতারণার ঘটনায় এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ঔরঙ্গাবাদ পুলিশ। সেখানে জামিন পেয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় চলে আসে অভিযুক্তরা। এখান থেকেই চলছিল জালিয়াতি কারবারের সেকেন্ড ইনিংস।
  • Link to this news (বর্তমান)