সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়
বানানের আমি, বানানের তুমি, বানান দিয়ে যায় চেনা? বঙ্গে ভোটার লিস্টে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের (সার) হিয়ারিংয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ছেন নামের গেরোয়। ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় যে এক কোটির মতো ভোটারের নাম রয়েছে, সেখানে অনেকেরই নাম নিয়ে বা পদবির বানান নিয়ে তৈরি হচ্ছে সমস্যা।
আবার নাম বা পদবির বানানের সূত্র ধরে ‘ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি খুঁজতে যে সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও সব ক্ষেত্রে বাংলা বা ইংরেজি বানানে ফারাক করতে পারছে না বলে নজরে এসেছে কমিশনের। তার ফলে ২০০২–এর ভোটার লিস্টের সঙ্গে লিঙ্কেজ মেলাতে গিয়ে অনেক সময়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
গত কয়েক দিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কারও বাবা ব্যানার্জি আর ছেলের পদবি বন্দ্যোপাধ্যায় হলে সমস্যা হবে কেন?’ সাধারণ ভোটারদেরও অনেকের মনেও একই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে। সমস্যাটা ঠিক কোথায়?
রাজ্যের স্পেশাল রোল অবজ়ার্ভার সুব্রত গুপ্তর যুক্তি, ‘প্রযুক্তির কোনও দোষ নেই। তাকে যে ভাবে কাজে লাগানো হয়, সেই ভাবেই আচরন করে। এত দিন রাজ্যে কোনও ডিজিটাইজ়ড ভোটার তালিকা ছিল না। ২০০২–এর ভোটার তালিকা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাইজ় করা হয়েছে। সেখানেই সমস্যা হয়েছে।’ তিনি জানান, বন্দ্যোপাধ্যায় আর ব্যানার্জি, মুখার্জি আর মুখোপাধ্যায় কিংবা সিংহ ও সিনহা-র ফারাক প্রযুক্তি বুঝতে পারছে না। একই ভাবে ‘দে’ পদবির ক্ষেত্রে বাবা হয়তো লেখেন ‘Dey’, ছেলে লেখেন ‘De’। দু’টির মধ্যে যে কোনও ফারাক নেই, প্রযুক্তি তা ধরতে পারছে না। তাই আরও একটু বেশি সময় ধরে চিন্তাভাবনা করে পুরো প্রক্রিয়াটা করা হলে ভাল হতো।
আদিবাসী ভোটারদের কারও কারও নাম বা পদবির ক্ষেত্রে এই বিভ্রান্তি মারাত্মক চেহারা দিয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো, ইংরেজির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলা ভাষার উচ্চারণ অনুযায়ী বানান লেখা যাচ্ছে না। এই সফটওয়্যার এখনও সেটা সব ক্ষেত্রে করে উঠতে পারছে না।
এই সমস্যাটা কতটা গভীর, তা রোল অবজ়ার্ভার হিসেবে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে বুঝেছেন সুব্রতও। যেমন— আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের শুনানি কেন্দ্রে গিয়ে তিনি দেখেন, ওরাওঁ জনগোষ্ঠীর ভোটার বসন্ত খালকে ইংরেজিতে পদবি লেখেন ‘XALXO’। সমস্ত নথিতে এই বানানই। কিন্তু প্রযুক্তি সেটা ধরতে পারছে না। ফলে তাঁকেও হিয়ারিংয়ে ডেকে পাঠানো হয়েছে। এ রকম অনেকের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে। এর জন্য দিল্লিতে কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের আধিকারিকদের ত্রুটি রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও এই সমস্যা হিয়ারিংয়ের আগে দূর হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তায় কমিশনের আধিকারিকরা।