আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পা রাখা প্রথম ভারতীয় তিনি। স্বদেশকে দেখেছেন পাখির চোখে। মহাকাশের চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি শুধু দক্ষতার সঙ্গে সামলাননি, বিশ্ব মঞ্চে লিখে দিয়েছেন ভারতের নাম। তিনি গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। অশোকচক্র-এর জন্য তাঁর নাম সুপারিশ করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী কাল অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি তাঁকে ‘অশোকচক্র’ সম্মানে ভূষিত করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।
গত বছরের ২৫ জুন স্পেসএক্সের ‘ড্রাগন’ মহাকাশযানে চড়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে পাড়ি দিয়েছিলেন শুভাংশু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের ক্রু-কম্যান্ডার পেগি হুইটসন, মিশন বিশেষজ্ঞ স্লাওস উজানস্কি-উইজ়নিউস্কি এবং টিবর কাপু। ১৮ দিন পরে মহাকাশ স্টেশন ছাড়ার সময়ে ভারতের প্রথম মহাকাশচারী রাকেশ শর্মার উক্তির রেশ ধরে শুভাংশুর মুখেও শোনা গিয়েছিল সেই অমর উক্তি, ‘ভারত আজও সারে জাঁহা সে আচ্ছা।’
১৮ দিন পরে পৃথিবীর মাটিতে পা রাখেন শুভাংশুরা। প্রশান্ত মহাসাগরে স্প্ল্যাশডাউন (জলে অবতরণ) করে তাঁদের মহাকাশযান। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে ৬০টিরও বেশি পরীক্ষানিরীক্ষা করেছিলেন তাঁরা। পৃথিবীর মাটিতে পা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই দিল্লিতে আসেন শুভাংশু। জাতীয় পতাকা, ফুল, মালায় তাঁকে স্বাগত জানান দেশবাসী। উপস্থিত ছিলেন তাঁর পরিবারের লোকজনও। দিল্লিতে নামার আগে বিমানে বসে একটি আবেগঘন X পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘অভিযানের অনেককে ছেড়ে আসছি। মন খারাপ লাগছে। প্রথমবার দেশে ফিরছি। প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হবে। খুব ভালোও লাগছে। জীবন এমনই, সবকিছু একসঙ্গে উপহার দেয়।’
উত্তরপ্রদেশের লখনৌ বাসিন্দা শুভাংশু। সেখানেই পড়াশোনা, বেড়ে ওঠা। দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরে ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন তিনি। সেখান থেকেই স্নাতক হন। ২০০৬ সালে যোগ দেন বায়ুসেনায়। এখন গগনযান মিশনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরো। ২০২৭-এ দেশীয় প্রযুক্তিতে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। তারই অঙ্গ হিসেবে অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই অভিযানেই ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন শুভাংশু। তাঁর হাত ধরে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন সফল হয়েছে কোটি কোটি দেশবাসীর।