পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে খোঁজ মিলল ‘ভুয়ো’ চক্ষু চিকিৎসকের। তাঁর কাছে চিকিৎসা করিয়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পথে এক বৃদ্ধ। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম দিলীপকুমার দাস। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরেই তদন্তকারী টিম গড়ে তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দিলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী।
অভিযোগ, নিজের প্রতিষ্ঠিত চক্ষু হাসপাতালে দিলীপকুমার দাস চক্ষু পরীক্ষা-সহ যাবতীয় চিকিৎসা করেন। সেই কুকাই চক্ষু হাসপাতালে ছানি অস্ত্রোপচার করিয়েই 'অন্ধ' হওয়ার পথে বছর ৬৩-এর বৃদ্ধ সুধীর কোটাল। যদিও দিলীপকুমার বলেন, ‘আমার কোনও ডিগ্রি নেই...২৫ বছর ধরে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে করতে চিকিৎসক হয়েছি। আমি চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ নই, তবে চিকিৎসক।’
পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি ব্লকের বৈরামপুর এলাকার বাসিন্দা সুধীর কোটাল। বছর তিনেক আগে তাঁর দুই চোখেই ছানি ধরা পড়ে। সেই সময়েই হলদিয়ার চৈতন্যপুরে তাঁর ডানচোখে সফল অস্ত্রোপচারও হয়। সেই চোখে এখন ভালোভাবেই দেখতে পান তিনি। অভিযোগ, ইদানিং বাম চোখের সমস্যা বাড়ায়, গত ২ নভেম্বর, রবিবার বাড়ির কাছাকাছি কুকাই এলাকায় অবস্থিত কুকাই চক্ষু হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে যান। চক্ষু পরীক্ষা করেন ওই হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা তথা নিজেকে ‘চিকিৎসক’ রূপে পরিচয় দেওয়া দিলীপকুমার দাস।
সুধীরের ছোট ছেলে সমরেশ কোটালের অভিযোগ, ‘চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, ছানি অপারেশন করতে হবে। সোমবারই অপারেশনের কথা বলেন। আমরা রাজি হয়ে যাই। সেইমতো ৩ নভেম্বর, সোমবার অস্ত্রোপচার হয়। তবে, কোনও ডাক্তার অস্ত্রোপচার করেছেন, তা আমাদেরকে জানানো হয়নি। এমনকী তাঁর স্বাক্ষরিত কোনও প্রেসক্রিপশন আমরা পাইনি। অন্ধভাবে ওঁকে বিশ্বাস করেছিলাম।’
তিনি জানান, সুধীরের চোখে মোট ১৭ হাজার টাকা মূল্যের লেন্স লাগাতে হয়েছে। ৩ তারিখ অস্ত্রোপচারের পরে ডিসচার্জ করে দেওয়া হয়। দেড় মাস পরে ফের যেতে বলা হয়। এ দিকে, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই সুধীর দৃষ্টিশক্তি হারাতে থাকেন। বাধ্য হয়েই খড়্গপুরের এক চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হয়। তিনিই জানান, ভুল অস্ত্রোপচারের কারণেই এমনটা হয়েছে। শনিবার বাবাকে নিয়ে কুকাই চক্ষু হাসপাতালে গিয়ে কৈফিয়ত চান সমরেশ। উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও করেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ।
রবিবার সকালে এই বিষয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, ‘শনিবার বিকেলেই স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মুখ থেকে এই বিষয়টি শুনেছি। অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিকের নেতৃত্বে তদন্ত টিম গড়েছি। তাঁরা রবিবার বিকেলের মধ্যেই ওই হাসপাতালে যাবেন।’ তিনি এও জানান, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এ ভাবে হাসপাতাল চালানো যায় না। বছর বারো আগে, কোনও এক চিকিৎসককে দেখিয়ে অনুমতি নিয়েছিলেন। এখন নাকি উনি নিজেই চিকিৎসা করছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ওই হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হবে।