• মুখ্যমন্ত্রীর সভার বিরাট আয়োজন সিঙ্গুরে
    আজকাল | ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • মিল্টন সেন, হুগলি: আগামী বুধবার সিঙ্গুরে সভা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালি এলাকায় সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সভার পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে জনসভা। জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। 

    জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভা মিনি ব্রিগেডের আকার ধারণ করা শুধু সময়ের অপেক্ষায়। কার্যত জনসমুদ্রে ভাসতে চলছে সিঙ্গুর। মানুষের স্বতস্ফূর্ততা ২৬-এর বিধানসভায় আবারও প্রমাণ করতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা সভার প্রস্তুতিতে চাঙ্গা হুগলির তৃণমূল কংগ্রেস। 

    গত ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে টাটার মাঠে সভা করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সিঙ্গুর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিরব থাকা নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। প্রধানমন্ত্রীর সভার দশ দিন পর সেই সিঙ্গুরের ইন্দ্রখালিতে সমাবেশ করতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে হবে দু'টি মঞ্চ। একটি থেকে হবে সরকারি প্রকল্পের সহায়তা প্রদান। পাশের মঞ্চ থেকে হবে সমাবেশ। 

    ইতিমধ্যেই সেই সমাবেশের প্রস্তুতি সভা চলছে সিঙ্গুর জুড়ে। হুগলির দুই সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল নেতৃত্বের উপস্থিতিতে চলছে দলীয় বৈঠক। সিঙ্গুরের বিধায়ক মন্ত্রী বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে যেভাবে আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, নেতা অভিষেক ব্যানার্জিকে আকার ইঙ্গিতে অপদস্ত করেছেন, তারই জবাব দেবেন সিঙ্গুরের মানুষ। জবাব দেবেন বাংলার মানুষ, হুগলি জেলার মানুষ। সেই কারণে আলাদা করে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সিঙ্গুরের এই সভা একটা মিনি ব্রিগেডের রূপ নেবে। উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। প্রস্তুত জেলার সমস্ত স্তরের নেতারা। সকলে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। সকলের লক্ষ্য অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে এই সভা। প্রধানমন্ত্রী সিঙ্গুরের মানুষকে যেটা দিতে পারেননি, তার থেকে হাজারগুণ বেশি প্রকল্প ঘোষণা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।' 

    মন্ত্রী আরও বলেছেন, 'রাজ্যে প্রায় ১৬০০ ছোট বড় মাঝারি শিল্প। হুগলিতে প্রায় ৩০০-এর উপর ছোট মাঝারি শিল্প তৈরি হয়েছে। এটা বিজেপি নেতাদের নজরে পড়ে না। তাঁরা দেখতে পান না। হয়তো চোখে কিছু গোলমাল আছে, তাই দেখতে পান না। রাজ্যে শিল্প হয়েছে। আরও যাতে শিল্প আসে সেই লক্ষ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চেষ্টা করে চলেছেন।' 

    তিনি আরও বলেন, 'এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজেপি যেভাবে পিছন দরজা দিয়ে বাংলায় ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে তার উপযুক্ত জবাব দেবেন মানুষ।সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের জন্য সিপিএম বাংলায় হিরো থেকে জিরো হয়েছিল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি শূন্যর পরে যদি কোনও সংখ্যা থাকে, সেটা পাবে।' 

    শনিবার হরিপালের সহদেব অঞ্চলের গবাটী লজে অনুষ্ঠিত হয় প্রস্তুতি সভা। উপস্থিত ছিলেন হরিপাল সহদেব অঞ্চল, পশ্চিম গোপীনাথপুর অঞ্চল, দ্বারহাট্টা অঞ্চল, পাঁটরা অঞ্চল, শ্রীপতিপুর- ইলাহিপুর অঞ্চল নেতৃত্ব। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না এবং হরিপালের বিধায়ক ডাঃ করবী মান্না। 

    ছবি: পার্থ রাহা
  • Link to this news (আজকাল)