আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৫ জানুয়ারি, জাতীয় ভোটার দিবস। কমিশনের উদ্যোগে এ দিনটি ঘটা করে পালিত হয়। যাকে 'করুণ প্রহসন' বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তাঁর সাফ কথা, 'হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার---আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত।'
এক্স-পোস্টে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে লেখা রয়েছে, 'মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছেন এবং সেটাকে একটি করুণ প্রহসনের মতো দেখাচ্ছে। হিজ মাস্টার্স ভয়েস হিসেবে কমিশন এই মুহূর্তে মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত, এবং তাদের ঔদ্ধত্য হচ্ছে জাতীয় ভোটার দিবস পালন করার---আমি এতে স্তম্ভিত, বিস্মিত, বিচলিত।'
নিজের পোস্টে বিজেপি-কে কমিশনের 'প্রভু' বলে তোপ দেগেছেন মমতা ব্যানার্জি। লিখেছেন, 'মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালন করার পরিবর্তে এবং বিধি-নিয়ম অনুসারে মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশন এখন লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির নামে নতুন-নতুন অজুহাত তৈরি করে চলেছে। মানুষকে অত্যাচার করা হচ্ছে, তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তাদের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে! তাদের প্রভু বিজেপি-র হয়ে তারা বিরোধীদের ধ্বংস করতে চায় এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের ভিত্তিমূলে আঘাত করতে চায়। এদেরই আবার সাহস হচ্ছে ভোটার দিবস উদযাপন করার!!'
এরপরই এসআইআর শুনানির নিয়ে কমিশনের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্স-পোস্টে মমতা ব্যানার্জি লিখেছেন, 'নির্বাচন কমিশনকে বলি: আপনারা মানুষকে অভূতপূর্ব অত্যাচারের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন, আপনাদের অত্যাচারের ফলেই এখনও পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। আপনারা যেভাবে ৮৫, ৯০ , ৯৫ বছরের মানুষকে ডেকে পাঠাচ্ছেন এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষকেও আপনাদের সামনে হাজির হতে বাধ্য করছেন তা করার অধিকার কি আপনাদের আছে? এই বেআইনি চাপ ও নিগ্রহের ফলেই আত্মহত্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এবং আপনারা এটা করছেন আপনাদের রাজনৈতিক প্রভুর নির্দেশে ও স্বার্থে।'
এসআইআর প্রক্রিয়াকে এনআরসি-র প্রেক্ষাপট বলে মনে করেন মমতা ব্যানার্জি। লিখেছেন, 'এটাকে আপনারা নাগরিকদের জন্য এনআরসি প্রক্রিয়া বানিয়ে তুলেছেন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তপশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষের জন্য এটা বিশেষ পীড়ার কারণ হয়েছে।'
শেষে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, 'নির্বাচন হলো গণতন্ত্রের উৎসব। কিন্তু আপনাদের পক্ষপাত- দুষ্ট আচরণ এবং একতরফা বেআইনি কান্ডকারখানা, মাইক্রো অবজারভার প্রভৃতিদের দলে দলে পাঠিয়ে সেই নিগ্রহ বৃদ্ধি এবং মানুষকে দলে দলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া পরিণতিতে আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। ভোটার দিবস পালনের কোনও অধিকার আপনাদের আজ নেই।'