অবশেষে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করলেন কুমারগঞ্জে আক্রান্ত মাইক্রো অবজার্ভার। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে শুনানি কেন্দ্রে হেনস্থার ঘটনায় পুলিশ সুপারের কাছে ইমেল মারফত অভিযোগ জানালেন আক্রান্ত মাইক্রো অবজার্ভার দিব্যেন্দু গড়াই। শনিবার রাতে তিনি ইমেল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তল সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘ইমেলে অভিযোগ পেয়েছি। FIR করা হচ্ছে, ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
যদিও ঘটনার পরে এখনও কেন কাউকে গ্রেপ্তার করা গেল না, তা নিয়ে সরব বিজেপি। তাদের বক্তব্য, যে ফুটেজ সামনে এসেছে, তাতে সব মুখই স্পষ্ট। তার পরেও কেন গড়িমসি? এ দিকে শনিবারের ঘটনার পরে রবিবার থমথমে ছিল কুমারগঞ্জ ব্লক অফিস চত্বর। বালুরঘাটের বিভিন্ন শুনানি কেন্দ্র খোলা থাকলেও, কুমারগঞ্জ ব্লক অফিস চত্বরের শুনানি কেন্দ্র বন্ধই ছিল। তবে এই ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে চাননি আক্রান্ত মাইক্রো অবজার্ভার।
কুমারগঞ্জ ব্লক অফিস চত্বরে থাকা আইসিডিএস ভবনেই শনিবার SIR শুনানি চলছিল। যেখানে জাখিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের শুনানি হচ্ছিল। সেখানে দায়িত্বে ছিলেন দিব্যেন্দু গড়াই। সারাদিন ঠিকমতো কাজ চললেও সন্ধের দিকে আচমকাই চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়।
অভিযোগ, বিনা কারণে বৈধ ভোটারদের নাম কাটার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এমন অভিযোগ তুলেই একদল লোক ক্যাম্পের ভিতরে ঢুকে দিব্যেন্দুকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। মারধরের ফলে ওই সরকারি আধিকারিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সঙ্গে সঙ্গে বিডিও অফিস ও স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই আধিকারিককে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। সরকারি কর্মীর উপরে হামলার জেরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা জুড়ে।
বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এ নিয়ে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের প্রত্যক্ষ মদতে কিছু লোক মাইক্রো অবজার্ভারদের হেনস্থা করছে। কুমারগঞ্জে তৃণমূল নেতা হামলা করে, থাপ্পড় মারে। পুরোটাই পরিকল্পনামাফিক বোঝা যাচ্ছে। কমিশন কঠোর হাতে বিষয়টা দেখুক।’
যদিও জেলার তৃণমূল নেতা সুভাষ চাকি বলেন, ‘বিজেপি কী বলছে, আমরা দেখব না। ওরা মিথ্যা কথাই বলে। তবে যে ঘটনাই শনিবার ঘটুক, তা সাধারণ মানুষের রাগের বহিঃপ্রকাশ। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। কমিশন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে যা করছে, তাতে মানুষ ক্ষুব্ধ। এটা তারই বহিঃপ্রকাশ।’