• শিক্ষা থেকে নাট্য জগতে অতুলনীয় অবদান, উত্তরবঙ্গের তিন কৃতি পেলেন পদ্ম সম্মান
    এই সময় | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • বাংলা থেকে মোট ১১ জন পেতে চলেছেন পদ্মশ্রী সম্মান। চিকিৎসা থেকে রসায়ন, শিল্প থেকে সাহিত্য— পদ্ম সম্মানের মঞ্চে বাংলার জয়জয়কার। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে তিন বিশিষ্ট নাগরিককে দেওয়া হচ্ছে এই সম্মান। জীবন সংগ্রামের মাঝেই দেশের জন্য অতুলনীয় কৃতিত্ব রয়েছে তাঁদের।

    সারা জীবন পাহাড়ের গাছগাছালি নিয়ে চর্চা করেছেন। হিমালয়ের ঔষধি বৃক্ষ নিয়ে চর্চাই তাঁর সাধনা। কালিম্পং কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ গম্ভীর সিং ইয়োনজ়োন এ বার পদ্মশ্রী পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘দিল্লি থেকে ফোন করেছিল। তবে তালিকা হাতে পাইনি।’ কলেজ জীবন শেষ করে অধ্যাপনায় যুক্ত হন তিনি। তবে বছর বারো বছর শিক্ষকতার পরে যুক্ত হন হিল স্কুল সার্ভিস কমিশনে। দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিলের অধীনে তখন হিল স্কুল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয়। ২০০৩ সালের মধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন অচল হয়ে গেলেও নিজের লক্ষ্য থেকে দূরে সরেননি তিনি। গবেষণার সূত্র ধরে সুদূর আমেরিকার কালিফোর্নিয়াতেও প্রায় ছয় মাস তিনি অতিথি অধ্যাপক হিসাবে কাজ করেন। পাহাড়ের ধস রোধেও নানা কাজ রয়েছে তাঁর। বাড়িতে একটি ঔষধি বাগানও গড়ে তুলেছেন। রাজ্য মেডিসিনাল প্ল্যান্ট বোর্ডের সদস্য তিনি।

    তিস্তাপাড়ের বাসিন্দা এ বার ভূষিত হচ্ছেন পদ্মশ্রী পুরস্কারে। রবিবার কেন্দ্রীয় সরকার দেশের পদ্মশ্রী প্রাপকদের যে নামের তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে ঠাঁই পেয়েছেন উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের ডিন তথা কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য মহেন্দ্রনাথ রায়। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র একটানা ৩৭ বছর ধরে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে কিছুদিন মালদা কলেজে শিক্ষকতা করেন। তার পর থেকেই উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। সমগ্র উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি কলেজে তাঁর ছাত্ররা শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। রসায়নে গবেষণার সূত্র ধরে দেশ ও বিদেশের নানা পুরস্কার পেয়েছেন। পেয়েছেন রাজ্য সরকারের বঙ্গভূষণ সম্মানও। আদতে জন্ম কোচবিহার জেলার হলদিবাড়ির বক্সিগঞ্জ এলাকার ভোলারহাট গ্রামে। বাড়িতে স্ত্রী এবং দুই কন্যা রয়েছেন। পদ্ম সম্মানের খবর পেয়ে তিনি বলেন, ‘দিল্লি থেকে আমায় ফোন করা হয়। পদ্মশ্রী প্রাপকদের তালিকায় যে আমার নাম রয়েছে সেটা জানানো হয়েছে। সারা জীবন শিক্ষার জন্য ব্যয় করার পরে এটা একটা বিশেষ সম্মান।’

    বালুরঘাটের বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে মরণোত্তর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হলো। রবিবার কেন্দ্রীয় সরকার তরফে পদ্মশ্রী সম্মানে হরিমাধব মুখোপাধ্যায়কে ভূষিত করতেই খুশির আবহাওয়া তৈরি হয়েছে বালুরঘাটে। ‘নাটকের শহর’ বলেই পরিচিত বালুরঘাট। সেই বালুরঘাটের অন্যতম নাট্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন হরিমাধব। একাধারে নাটকের অভিনয়, নির্দেশনা ও নাটক লিখেছেন। ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে এই নাটকের জগতে আসা ওনার। এরপর যুবক বয়সে ১৯৫৪ সালে নিজেরাই ‘তরুণ তীর্থ’ নামে দল তৈরি করে। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে বালুরঘাটে হরিমাধব ও অন্যদের সহযোগীতায় ‘ত্রিতীর্থ’-এর জন্ম হয়। একের পর এক ত্রিতীর্থের প্রযোজনা ও হরিমাধবের নিজের লেখা নাটক ও নির্দেশনায় গোটা বাংলা তো বটেই, বাংলার বাইরেও সুনাম অর্জন করেন। হরিমাধবের নিজের লেখা ও নির্দেশনায় ‘জল’, ‘দেবাংশী’, ‘অসমাপিকা’-সহ বহু নাটক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তিনটি নাট্য সমগ্রের বই প্রকাশ করেন। ছোট, বড়, একাঙ্ক ও পূর্ণাঙ্গ নাটক মিলিয়ে প্রায় ৬০টি নাটক তিনি লিখেছেন। নাট্যজগতে তাঁর অবদানে সঙ্গীত নাট্য একাডেমির তরফে জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। এছাড়াও ‘পশ্চিমবঙ্গ দীনবন্ধু পুরষ্কার’, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ‘বঙ্গভূষণ’, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা পুরস্কার’, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট সম্মান-সহ নানান সম্মান পেয়েছেন।

    বর্তমানে হরিমাধব মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে স্ত্রী রিনা মুখোপাধ্যায় ও ছেলে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় রয়েছেন। এছাড়াও দুই মেয়ে মধুশ্রী মুখোপাধ্যায় ও মিতশ্রী দত্তের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আজ সকালেই সরকারের তরফ থেকে ফোন করে এই সম্মাননার বিষয়টি জানানো হয়। আমরা এই সম্মানে খুবই খুশি। তবে উনি জীবদ্দশায় এই সম্মান পেলে আরও বেশি ভালো লাগত। বাবাকে মরণোত্তর এই সম্মান জানানোয় ধন্যবাদ জানাই কেন্দ্রীয় সরকারকে।’

  • Link to this news (এই সময়)