১৯৬৮ সালে শিশু শিল্পী হিসেবে সেলুলয়েডে আবির্ভাব প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’তে তাঁকে প্রথমবার অভিনয় করতে দেখা যায়। তখন বয়স মাত্র ছয় বছর। এর কুড়ি বছর বাদে নায়ক হিসেবে বড় পর্দায় আবির্ভাব। ‘দু’টি পাতা’ ছবিতে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন।তবে ১৯৮৭ সালে ‘অমর সঙ্গী’ ছবি থেকে নায়কের ইমেজ গড়ে ওঠে তাঁর। এরপর থেকেই ছুটছে তাঁর ক্যারিয়ার।
দীর্ঘ ছয় দশক ধরে তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে দাপিয়ে কাজ করছেন। কেরিয়ারের শুরুতে বলিউডে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। তবে বাংলায় কাজ করবেন বলে সেখানে যেতে চাননি, দাবি অভিনেতার। ২০১২ সালে ‘সাংহাই’ ছবির মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর বলিউড সফর। এই মুহূর্তে বলিউড টলিউড দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই দাপিয়ে কাজ করছেন ‘বুম্বাদা’।
দীর্ঘ ৪০ বছরের কেরিয়ারে ৪০০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। একটা সময় বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে পুনরুজ্জীবিত করতে তাঁর অবদানের কথা সিনেপ্রেমী মানুষের মুখে মুখে ফেরে। নিজেকে বাংলা সিনেমার একজন সৈনিকই মনে করেন তিনি। গত বছর এই সম্মান পেয়েছিলেন অরিজিৎ সিংহ, মমতাশঙ্কর। যদিও পদ্ম বিভূষণ ও পদ্মভূষণের তালিকায় এ বার বাংলা থেকে কারও নাম নেই।
২০২৬ সালে শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পাচ্ছেন নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়। তিনি মরণোত্তর পদ্মসম্মানে ভূষিত হচ্ছেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটনিবাসী হরিমাধব ১৯৬৯ সালে তৈরি করেন ত্রিতীর্থ নাট্যদল। সেখানেই তাঁর নির্দেশনায় ‘দেবাংশী’, ‘গ্যালিলিও’, ‘রক্তকরবী’-সহ বহু নামী নাটক রসিক মহলে সাড়া ফেলে দেয়। তাঁকে বালুরঘাটের নাট্য আন্দোলনের দিশারী বলা হয়। গত বছর তাঁর মৃত্যু হয়।
সঙ্গীত জগতে অবদানের জন্য এই সম্মান পাচ্ছেন তবলাবাদক কুমার বসু। ৭২ বছর বয়সি তবলা শিল্পী কুমার বসু আন্তর্জাতিক সঙ্গীত ক্ষেত্রে উজ্জ্বল একটি নাম। বাবা বিশ্বনাথ বসুর কাছেই তবলায় প্রাথমিক পাঠ। গানের উত্তরাধিকার পেয়েছেন সেতারশিল্পী মা ভারতী বসুর থেকেও। বেনারস ঘরানার এই শিল্পী পণ্ডিত রবিশঙ্কর-সহ বহু শিল্পীর সঙ্গে দেশবিদেশে তবলায় সঙ্গত করেছেন।
এই সম্মান পাচ্ছেন বীরভূমের কাঁথাশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়।বীরভূমনিবাসী কাঁথাশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়। শিল্পকলা বিভাগে এই সম্মাননা পেলেন তিনি। এর আগে বঙ্গশ্রী পুরস্কার, জাতীয় পুরস্কার এবং কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের তরফে ‘শিল্পগুরু’ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।
এছাড়া এই সম্মান পাচ্ছেন তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ, সন্তুর বাদক তরুণ ভট্টাচার্য। শিক্ষা ও সাহিত্য থেকে পাচ্ছেন শ্রী অশোক কুমার হালদার, এছাড়াও গম্ভীর সিংহ ইয়নজন, মহেন্দ্রনাথ রায় ও রবিলাল টুডু। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পাচ্ছেন হৃদ্রোগের চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল। সরোজ মণ্ডল কলকাতার পরিচিত এবং অভিজ্ঞ এক হৃদ্রোগ চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।
সাঁওতালি সাহিত্যে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পুরস্কার পাচ্ছেন কালনার বাদলার নোয়ারার বাসিন্দা রবিলাল টুডু। ২০২২ সালে রাজ্য সরকার তাঁকে বঙ্গভূষণ পুরস্কার দেয়। ছাত্রজীবন থেকে নাটক লেখা, অভিনয়ও করেছেন তিনি। বিরসা মুন্ডার জীবনী নিয়ে লেখা বই ‘বীর বিরসা’ তাঁকে খ্যাতির আলোয় এনে দেয়।বর্ধমানের কালনা শহরের বারুইপাড়ার বাসিন্দা তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ। মসলিন শিল্পে অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পাচ্ছেন। সাত বছর বয়স থেকে মসলিনের কাজে যুক্ত তিনি। রসায়নের অধ্যাপক মহেন্দ্রনাথ রায়ের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে ন্যানোজিম নিয়ে গবেষণায়।