জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'যেভাবে আমার নথি চ্যালেঞ্জ হল, সেটা নিশ্চয়ই হেনস্থা'। SIR শুনানিতে এবার হাজিরা দিতে হল রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজাকেও! তিনি বলেন, 'আমি আমার নামটি নিয়ে চিন্তিত নই। সাধারণ যে ভোটাররা আছে, তাঁদের নিয়ে চিন্তাটা বেশি হয়ে গেল। আমার কী আছে! মেডিক্যাল ডিগ্রিও হাজির করে দেব, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের'।
SIR-এ রেহাই নেই কারও। লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসির কারণ দেখিয়ে শুনানিতে তলব করা হয় খোদ রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজাকে। আজ, রবিবার কেশব ভবনে শুনানিতে হাজিরাও দেন তিনি। শুনানি কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে শশী বলেন, 'অবাক হয়ে গেলাম, আমার ২০০২ সালে নাম রয়েছে। ওই নামের বানান, বর্তমানে ফর্মে যেটা এল, কোন কিছুতে কোনও ফারাক নেই। সমস্ত পরিষ্কার। শুধু ওরা বলল, BLO অ্যাপে, হয়তো অ্যাপ আপডেটেড নয় গলদ। গলদ ওদের। এটুকু দেখালে হত, ১১ নথি আমার কাছে চাওয়াটা আমি স্তম্ভিত হওয়াতে অন্য রায় রিয়্যাক্ট করল'।
উত্তর কলকাতার শ্য়ামপুকুরের বিধায়ক তৃণমূলের বিধায়কের সাফ কথা, 'কোনও ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের তো শক্রতা নেই। ভিতরে যাঁরা বসে রয়েছেন, সে BLO হতে পারে, ERO হতে পারে, মাইক্রো অবর্জাভার হতে পারে। তাদের তো ইলেকশন কমিশন নির্দিষ্টভাবে কাজগুলি বলে দিয়েছে। সেখানে যেভাবে আমার নথি চ্যালেঞ্জ হল, সেটা নিশ্চয়ই হেনস্থা। সাধারণ মানুষের হেনস্থা। হতে পারে না। এটা অন্যায় হচ্ছে'।
মন্ত্রী বলেন, '২০০২-তে যাঁরা রয়েছে, তাঁদের সত্যিই কিছু লাগে না। ২০০২ সালে আমি নিজে। তারপর ছিল ২০০২ আপনার আত্মীয় স্বজন। তারপর ছিল আনম্যাপড। তারপর নতুন যেটা করেছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেনসি। টা তো চারটে বিভাগ। তারাই করলেন। এটা কথা ছিল, ২০০২ থাকলে ডাকাই হবে না'। জানান, 'ডাক যখন পেলাম, ২০০২ সালে আপনার ডিটেলস আপলোডেড নয়, সুতরাং ২০০২ তে আপনি বৈধ ভোটার ছিলেন কিনা, আমাকে দেখাতে হল। আমি দেখালাম। তারপর আর প্রশ্ন আসে কোথায়!যাঁরা প্রশ্ন করলেন, তার মানে তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রশ্ন করার। নিয়মটা কবে থেকে করেছেন। বাংলায় করেছেন তো'।
শশীর কথায়, 'আমার বাড়িতে চারজন সদস্য। স্বামী-স্ত্রী, দুই মেয়ে। তিনজনকে ডাকা হয়নি, আমাকেই ডাকা হল। এগারোটা নথি কেন চাওয়া হবে? ২০০২তে যে আছে, নাম-বানান কিছুই ভুল নেই। আমার য তৃণমূল কংগ্রেস থেকে যে প্রতিবাদগুলি করতাম, সেগুলি বৈধ। তাদেরকে নিশ্চয়ই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।' বলেন, 'হাজারো নথি দেখিয়ে দেব। মাধ্যমিক কেন, আরও উচ্চ পড়াশোনা আছে। কিন্তু কেন দেখাব? পাসপোর্ট আমি দেখাব না, এটা আমার প্রতিবাদ। কী করবে, দেখুন। পরের লিস্টে নাম তুলে কিনা, তিনবারের নির্বাচিত বিধায়কের নাম। যে প্রত্যেকটি মনোনয়ন পত্রে পার্ট নম্বর, সিরিয়াল নম্বর দিয়েছে, নিজেও ভোটে দাঁড়িয়েছে, ভোটার হিসেবে বছরের পর বছর ভোট দিয়েছি। এই নিয়মাবলী কে তৈরি করল, এটা অসাংবিধানিক ও বেআইনি'।