• আন্তর্জাতিক মঞ্চে রুপো জিতেও জুটছে না পড়াশোনার খরচ, চ্যালেঞ্জের মুখে দুর্গাপুরের পায়েল
    এই সময় | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর

    শিক্ষাই সম্পদ। শিক্ষা ছাড়া জুটবে না প্রকোনও কাজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের যোগা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এই উপলব্ধিই হয়েছে দুর্গাপুরের বেনাচিতির নেতাজি কলোনির বাসিন্দা পায়েল বাউড়ির। পড়াশোনা ছাড়া একোনও সাফল্য স্থায়ী নয়- এই বাতাই তার মনে এসেছে। পড়াশোনা করতে হবে, কিন্তু শুধু চাইলেই কি হবে? বই, খাতা, প্রাইভেট টিউশন- সবই খরচসাপেক্ষ। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে এই খরচ জোগাড় করা বড় চ্যালেঞ্জ।

    পায়েল গত ২৭ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশে গাজিয়াবাদে অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সাল যোগা স্পোর্টস ফেডারেশন আয়োজিত ওয়ার্ল্ড যোগা কাপ চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগিতায় রুপোর পদক জিতেছে। এর আগে ওডিশার বালাসোর এবং পশ্চিমবঙ্গের একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে। আগামী দিনে বিদেশেও অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের পথে পায়েলের সবচেয়ে বড় অন্তরায় অর্থের সীমাবদ্ধতা এবং পড়াশোনা না করা।

    পায়েলের পরিবারের সদস্য চার জন- পিতা গণেশ বাউড়ি, যিনি পণ্যবাহী টোটো চালান, মা গৃহবধূ এবং দশম শ্রেণিতে পড়া একটি ভাই। নিজস্ব বাড়ি নেই, ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সংসারে আর্থিক অনটন চরমে। এ কারণে সপ্তম শ্রেণির পর পায়েল পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি। বাবার কষ্টার্জিত সামান্য সঞ্চয় ভেঙে গাজিয়াবাদে গিয়ে ওয়ার্ল্ড যোগা কাপ চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয়েছিল। সেখানে ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সের গ্রুপে প্রতিযোগিতা করে রুপোর পদক জিতেছেন। মোট ১২টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল।

    পরবর্তী প্রতিযোগিতা শ্রীলঙ্কা বা থাইল্যান্ডে। সেখানে যাওয়ার খরচ অনেক। খরচ জোগাড়ের চিন্তার পাশাপাশি পায়েলকে কুড়ে খাচ্ছে পড়াশোনা না জানার আক্ষেপ। পায়েল বলে, 'বাবার রোজগার খুবই সামান্য। সংসার চলে কোনও ভাবে। প্রতিযোগিতার জন্য বিদেশে যাওয়ার খরচ বহন করা আমাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। একটা কাজ জোগাড় করব সেই উপায় নেই। অর্থের অভাবে পড়াশোনা বেশি দূর করতে পারিনি। বাইরে গিয়ে দেখছি, প্রতিযোগিতায় যতই সাফল্য আসুক, পড়াশোনা না-জানলে কোনও কাজ করা যাবে না। বিদেশি প্রতিযোগীদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না। পড়াশোনা করতে চাই, কিন্তু খরচ জোগাড় করতে পারছি না।'

    পায়েলের যোগা প্রশিক্ষক শুভ্রা দাস বলেন, 'খুব অল্প সময়ের মধ্যে পায়েল নিজেকে পারদর্শী করে তুলেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের প্রতিযোগিতায় সোনা জেতার মতো দক্ষতা রয়েছে। যোগার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়। কিন্তু সাফল্যের পথে একমাত্র অন্তরায়- অর্থ।'

  • Link to this news (এই সময়)