• চলছে একাধিক কর্মসূচি, জনহিতকর অনুষ্ঠান-কাজ, মাধ্যমিকের আগে মাইকের দাপট হাওড়ায়
    এই সময় | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • সৌমিত্র ঘোষ, বালি

    মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতে মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। পরীক্ষার্থীদের জন্য বলা যায়, শিরে সংক্রান্তি অর্থাৎ চূড়ান্ত মুহূর্ত। অথচ, এখনও পাড়ায় পাড়ায় বেজেই চলেছে লাউড স্পিকার। পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে এত টকুও দৌরাত্ম্য কমেনি মাইকের। উল্টে, কে, কত জনহিতকর অনুষ্ঠান করে জনসাধারণের কাছে পৌঁছতে পারেন, তারই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে যেন। গত দু'মাস ধরেই নানা অজুহাতে এলাকায় এলাকায় চলেছে মাইকের দাপাদাপি। রাজনৈতিক সভা থেকে মিছিল, মিটিং, উৎসব, কিছুই বাদ নেই। 'সার' নিয়ে রাজ্যজুড়ে প্রবল বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার পক্ষে ও বিপক্ষে তুমুল প্রচার চালিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। বিরাম নেই কর্মসূচির। এ দিকে, মাইকের উৎপাত ও প্রবল লাউড স্পিকারের জন্য মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনার দফারফা। নতুন বছরের জানুয়ারি জুড়ে একের পর এক কখনও জাগ্রত বিবেক উৎসব, বিবেক মেলা, ১২ জানুয়ারির যুব উৎসব কেন্দ্র করে জিটি রোড জুড়ে হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে শোভাযাত্রা চলেছে। কেউ ভাবেননি পরীক্ষার্থীদের কথা। এর সঙ্গে রয়েছে রক্তদান, বইমেলা, সরস্বতী পুজো ও পুজো উপলক্ষে মেলা। সর্বত্রই মাইকের দাপাদাপি। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীরা যাবে কোথায়? প্রশ্ন অভিভাবকদের।

    এ বছর রাজ্যে বিধানসভা ভোট হওয়ায়, এমনিতেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। অসংখ্য মিটিং-মিছিল ও প্রচার চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক আগে। পরীক্ষার আগে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি দিন। সে সব উপেক্ষা করেই, রবিবার সকাল থেকে কোথাও চলল রক্তদান, তো কোথাও রাজনৈতিক ভাষণ। রাজনৈতিক নেতা থেকে বিধায়ক, সমাজসেবী ক্লাব সমন্বয় সমিতির কর্তারা কেউই বাদ যাননি। এঁদেরই অনেককে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর দিন পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে দেখা যায়, গোলাপ ফুল, জলের বোতল হাতে নিয়ে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাতে। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির সময়ে বছরভর শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে যা প্রস্তুতি নিয়েছিল, সে সবই শেষ বারের মতো ঝালিয়ে নেওয়ায় ব্যস্ত তারা।

    পরীক্ষার শেষ প্রস্তুতি, তাই নিরিবিলি একটু শান্ত পরিবেশ খুব প্রয়োজন এদের। কিন্তু সেটা বুঝবে কে? সরস্বতী পুজো থেকেই পাড়ায় তারস্বরে চলছে মাইকের চিৎকার। কে, কত সামাজিক উপকার করছেন, কে, কত দেশের, রাজ্যের কথা চিন্তা করেন, প্রতি দিন সে সব চিৎকার শুনতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সব কিছুই মানিয়ে নেওয়া ছাড়া ছাত্রছাত্রীদের কাছে নেই অন্য উপায়। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার বিঘ্ন ঘটায়, স্বভাবতই বিরক্ত ও উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। কিন্তু তাঁদের কথাই বা কে শুনবে? প্রশাসনকেই অভিযোগ অভিভাবকদের।

    বালি, বেলুড়ে গত একমাসে বিবেকানন্দের জন্মদিনে যুব উৎসব, সারদা মায়ের জন্মতিথি উৎসব, রাজনৈতিক প্রচার, মিটিং, মিছিল, সঙ্গে মাইকের উৎপাত চলেছেই। সরস্বতী পুজো থেকে শুরু হয়েছে একদিকে মেলা ও বইমেলাও। রবিবার ছুটির দিন একাধিক এলাকায় ছিল রক্তদান শিবির। কেউই নীরবে, নিঃশব্দে তাঁদের জনহিতকর কাজে উৎসাহী নন। সুতরাং, পাড়াজুড়ে মাইকে সরব ঘোষণা চাই। এক বছর আগে বালিতেই পরীক্ষা চলাকালীন, এক রক্তদান শিবিরে এসে মাইক বাজতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ। তাঁর নির্দেশে দলীয় কর্মীরা মাইকে প্রচার বন্ধ করতে বাধ্য হন। কিন্তু এ দিন বিধায়ক থেকে যুবনেতা সবাই হাজির থাকলেও, এ কথা বলার কাউকে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে কল্যাণ ঘোষ বলেন, 'এখন বাংলার বুকে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। মানুষকে মৃত্যুর মিছিলে ঠেলে দিচ্ছে। আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাই, মানুষকে বিভিন্ন ভাবে রাস্তায় নামতে হচ্ছে। বিভিন্ন ভাবে প্রতিবাদের ভাষা ছড়াচ্ছে। ২ তারিখ থেকে পরীক্ষা। এখনও দেরি আছে। দু'তিন আগে থেকে মাইক বন্ধ রাখলেই চলবে।'

  • Link to this news (এই সময়)