সাধারণতন্ত্র দিবসে মোদি সরকারের শো অপারেশন সিন্দুর, স্মরণ বন্দেমাতরমের সার্ধশতবর্ষকেও
বর্তমান | ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ সাধারণতন্ত্র দিবসে মোদি সরকারের ‘শো’ অপারেশন সিন্দুর। এবার ৭৭ তম সাধারণতন্ত্র দিবস উদযাপনের থিম হল, ‘স্বতন্ত্র কা মন্ত্র বন্দেমাতরম/সমৃদ্ধি কা মন্ত্র আত্মনির্ভর ভারত।’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা বন্দেমাতরম গানের এবার সার্ধশতবর্ষ। আর তার সেলিব্রেশনেই এবার জোর সাধারণতন্ত্র দিবসে। তবে দেশ তো বটেই, বিশ্বকে নিজের সরকারের সাফল্য দেখানোর সুযোগ ছাড়তে নারাজ নরেন্দ্র মোদি। সেনাবাহিনী সরকারের হয় না ঠিকই। দেশের। তাও সরকারের শীর্ষস্তরের নির্দেশেই হয়েছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অপারেশন সিন্দুর। তাই দিল্লির কর্তব্যপথে মাটি এবং আকাশে, অপারেশন সিন্দুরের ‘শো’ই হবে সাধারণতন্ত্রের সেলিব্রেশনে অন্যতম আকর্ষণ। সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে শুরু হয়ে দেড় ঘণ্টা ধরে চলবে অনুষ্ঠান। ২১ তোপের ‘গান স্যালুট’ আর জাতীয় সঙ্গীত জনগণমন গানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন চন করবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।আকাশে ‘অপারেশন সিন্দুরে’র প্রতীকী প্রদর্শন করবে রাফাল, জাগুয়ার, সুখোই-৩০, মিগ-২৯। সাতটি যুদ্ধ বিমান আকাশে দেখাবে চমক। আর মাটিতে অর্থাৎ কর্তব্যপথে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ট্যাবলো এবার সাজানো হয়েছে অপারেশন সিন্দুরে। স্থল-নৌ-বায়ু—তিন বাহিনীর যৌথ প্রস্তুতি, অপারেশনের সাফল্য তুলে ধরা হবে। ব্রহ্মস আর আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রর হামলা এবং এস-৪০০র সুদর্শন চক্রের মতো শত্রুর অস্ত্রকে ভোঁতা করে দেওয়ার কথাও তুলে ধরা হবে আজকের সেলিব্রেশনে। এমআই-১৭ হেলিকপ্টার থেকে হবে পুষ্পবর্ষণ।অন্যদিকে, বন্দেমাতরমের সার্ধশতবর্ষ স্মরণে আয়োজনও অন্যরকম। একদিকে দিল্লির কর্তব্যপথে সারি দিয়ে প্রদর্শন হবে ১৯২৩ সালে শিল্পী তেজেন্দ্র কুমার মিত্রর আঁকা বন্দেমাতরম সিরিজ। দর্শক গ্যালারির প্রেক্ষাপটে দেখা যাবে ওই ছবির সিরিজ। একইভাবে বন্দেমাতরম স্রষ্ট্রা বঙ্কিমচন্দ্রের নৈহাটির কাঁঠালপাড়ার বাড়িতে বাজবে সেনাবাহিনীর বাদ্য। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে দেশজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বন্দেমাতরমের সুরবাদ্যে স্থল, নৌ, বায়ু সেনার পাশাপাশি উপকূলরক্ষী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুষ্ঠান।সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চে ফুলের সাজও হবে বন্দেমাতরমের থিমে। বাকি পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্য সরকার আর কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের ট্যাবলোতেও তুলে ধরা হচ্ছে বন্দেমাতরম থিম। সাধারণতন্ত্রের সেলিব্রেশনে চমক দিতে এবার কর্তব্যপথের দর্শক গ্যালারির নাম দেওয়া হয়েছে গঙ্গা, যমুনা, তিস্তা, গোদাবরী, ব্রক্ষ্মপুত্র, বিপাশা, চম্বল, মহানদীর মতো বিভিন্ন নদীর নামে। থাকছে সিন্ধুনদ নামেরও গ্যালারি। ফলে গেরুয়া শিবিরের কট্টরপন্থীদের একাংশ রবীন্দ্রনাথের লেখা জাতীয় সঙ্গীতে ‘সিন্ধু’ শব্দে আপত্তি জানিয়ে সেটি বাদ দেওয়ার দাবি করলেও দেশের সাধারণতন্ত্রের সেলিব্রেশনে সিন্ধু নদের নাম কিন্তু রাখতেই হল মোদি সরকারকেই! ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা যায় কি?